ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতি ব্যবহার করে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছে একটি চক্র। এ জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা অর্থ মন্ত্রণালয়ের মহাহিসাব নিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) এসএএস সুপার মো. শরিফুল ইসলাম। এ জালিয়াতির কাজে নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও ব্যবহার করেছিলেন শরিফুল। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়ে এ জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শরিফুলসহ মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে শিগগিরই মামলা দায়ের করবে দুদক। ইতিমধ্যে মামলা দায়েরের ব্যাপারে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিএও (অর্থ) বিভাগে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষামূলকভাবে চেকের পরিবর্তে ‘ইএফটি’ পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই বিভাগের আওতাধীন ‘ডিপেনডিং মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক’ (ডিএমটিবিএফ) প্রকল্পে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসের বেতন ও আনুষঙ্গিক বিলসমূহ দায়িত্বপ্রাপ্ত অডিটর, সুপার ও হিসাররক্ষণ কর্মকর্তা কর্তৃক যাচাই-বাছাইয়ের পর কম্পিউটারে এন্ট্রি দেয়া হয়। এ সময় মো. শরিফুল ইসলাম ইএফটি কার্যক্রমের জন্য উক্ত কার্যালয়ের একমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন। বেতনভাতা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাবসমূহ এন্ট্রি করে তিনি এগুলোকে ইএফটি’র সঙ্গে যুক্ত করেন । একই সময় শরিফুল ইসলাম কৌশলে তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন দিনা, ভাই ফিরোজ কবির ও বোন সুফিয়া সরকার এবং ২ ভাগ্নে মুরাদ মোর্শেদ ও তানভীর সরকারের ব্যাংক হিসাবও ইএফটি’র সঙ্গে যুক্ত করেন। এ ব্যাংক হিসাবগুলোর সবই ছিলো ডাচ বাংলা ব্যাংকের মিরপুর শাখায়। পরে গত বছরের ২ জুলাই থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে তিনি ওই ৬টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা স্থানান্তর করেন। এর কিছুদিন পরে ভাই মো. সাদেকুল ইসলামের সহায়তায় এটিএম কার্ড, ফান্ড ট্রান্সফার এবং অন্য শাখার চেকের বিপরীতে মোট ৬৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ওই হিসাব থেকে সরিয়ে নেন শরিফুল। বাকি টাকা না উঠিয়ে ওই হিসাবগুলোতে রেখে দেন। জালিয়াতিতে ব্যবহূত ওই ৬টি হিসাবের মধ্যে ৪টি হিসাবেরই নমিনি শরিফুলের ভাই সাদিকুল ইসলাম।
টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এসএএস সুপার মো. শরিফুল ইসলামকে ইতিমধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে কর্তপক্ষ।
দুদকের অনুসন্ধান টিম জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ সব অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শরিফুলকে প্রধান ও সাদিকুলকে দ্বিতীয় আসামি করে ৭ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। চলতি সপ্তাহে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে
