অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চাই দক্ষ শাসক গোষ্ঠী
এ কথা স্পষ্ট যে, একটি দেশের অর্থনীতি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। একটি গাড়ির চাকা যত সচল থাকবে গাড়িটি তত তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। তদ্রূপ একটি দেশের অর্থনীতির চাকা যত সচল থাকবে ঐ দেশ তত তাড়াতাড়ি কাঙ্ক্ষিত সফলতার মুখ দেখবে। গাড়ির ইঞ্জিন যত শক্তিশালী হয় গাড়ির চাকা তত দ্রুত হয়। চাকার দ্রুততা নির্ভর করে ইঞ্জিনের শক্তির উপর। আবার ইঞ্জিন যতই শক্তিশালী হোক; ড্রাইভার যদি পটু না হয় তাহলে হয়তো গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছতে অনেক দেরি হয় অথবা চালকের অপরিপক্বতার কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তা যদি অদ্ক্ষ শাসক কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়, সেই অর্থনীতি কখনোই সফলতা বয়ে আনতে পারে না। অপরদিকে সম্পদ সীমিত হলেও দক্ষ শাসক গোষ্ঠী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হলে একসময় সফলতার মুখ দেখা যায়। তাই অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চাই দ্ক্ষ শাসক গোষ্ঠী। জনগণই রায় দিবে এ বিষয়ে কারা দক্ষ। আর এই রায় প্রদানের জন্য চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।
মো.হাবিবুর রহমান
অনার্স ৩য় বর্ষ,ইংরেজি বিভাগ
ভোলা সরকারি কলেজ, ভোলা।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা
বাংলাদেশের রাজনীতির একটি অপ্রিয় সত্য কথা হচ্ছে স্বাধীনতার পর দেশ যে কয়েকবার স্বৈরশাসনের কবলে পড়েছে তার জন্য দায়ী ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে বিরোধ। যে দল বা যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক তারা ক্ষমতার চেয়ার ছাড়তে চায় না। কেউ চেয়েছিল একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম, কেউ গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্রের শাসন কায়েম। এতে করে দেশের উন্নয়ন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এখনো পিছিয়ে। জনগণ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করে একটি দলকে ক্ষমতায় বসায় আর সেই ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হলে নানান কৌশল শুরু করে ক্ষমতার চেয়ার ধরে রাখার জন্য। আর এতে করে শুরু হয় রাজনৈতিক বিরোধ। হরতাল, অবরোধ, হত্যা আর জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি শুরু হয় দেশে। যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির পথে বিরাট বাধা। একটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা আর গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা। আর এটা তখনই সম্ভবপর হবে যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের মানসিকতা সৃষ্টি হয়। ক্ষমতার ভাগ্য জনগণের হাতে ছেড়ে দিয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দিতে হবে। আর সেই নির্বাচন কৌশল নিয়ে রাজনীতির সুযোগ যাতে কেউ করতে না পারে,দলগুলোকে বসেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কি উপায়ে নির্বাচন দিলে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হবে।
শামীম মোহাম্মাদ মাসুদ
ফাইনান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং (৩য় বর্ষ)
সরকারি তিতুমির কলেজ, ঢাকা।
রাজনৈতিক সহনশীলতাই পারে অর্থনীতি উন্নয়ন করতে
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। অনেক আগেই বাংলাদেশ তার হতাশাজনক স্থান থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং বিশ্বের সভ্য দেশগুলোর মাঝে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। মধ্যআয়ের দেশ হিসেবেও প্রায় আসন্ন। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনীতি নামক অসুখ দানা বেঁধেছে তার শিকার আমাদের পুরো অর্থনীতি। দমন-পীড়ন আর বিরোধীদের জ্বালাও-পোড়াও রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য গোটা অর্থনীতি আজ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পড়েছে। এটা ১৯৯১ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের পর থেকে বিগত দুই দশকের চেয়ে অর্থনীতির কর্মকাণ্ডের অগ্রগামিতা প্রমাণ করে যে, গণতন্ত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাধা নয়। কিন্তু কেবল তখনই সম্ভব যখন একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে গণতন্ত্রের জবাবদিহিতা আর দায়িত্বশীলতা হাত ধরাধরি করে হাঁটে। কিন্তু আমাদের দেশে দেখা যায় বিশেষত নির্বাচন মৌসুমে যতই এগিয়ে আসে রাজপথে রাজনৈতিক সংঘাত একটি অব্যর্থ প্রচেষ্টা হিসেবে পরিণত হয়েছে, অন্তত অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বলা যায় আত্মঘাতী রাজনীতি নিজের পায়ে কুড়াল মারার শামিল। গণতন্ত্রের নির্বাচনকালীন বিজয়ী দল হিসেবে যে চর্চা আমরা করি তার নির্মম মাশুল দিতে হয় অর্থনীতিকে। এই ক্ষতিগ্রস্ত মুখে পড়া অর্থনীতিকে বাঁচাবার জন্য আমাদের নেই কোন উদ্যোগ, নেই কোন পরমত গ্রহণ করার মন-মানসিকতা। তাই আমাদের দেশে প্রত্যেক সুনাগরিককে ও বুদ্ধিজীবী ও অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক তাদের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। দেশকে বাঁচাতে, দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে, সর্বোপরি দেশের সুষ্ঠু ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজন সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধ। তাহলেই আমাদের দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। তার বিপরীত হলে হবে না।
মো. খোকন মিয়া
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অবশ্যই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত
শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলের নেত্রীর সাথে আলাপ আলোচনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আশা করা যায় না। দেশের অর্থনৈতিক আয়ের অন্যতম উত্স হলো তৈরি পোষাক। যদি দেশে হরতাল, বিশৃঙ্খরা থাকে বিদেশীরা তো আর বিনিয়োগ করতে আসবে না। যদি বিদেশীরা বিনিয়োগ করতে না আসে তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পতিত হবে। অর্থনৈতিক ক্ষতি হলেই তো দেশের ক্ষতি। অবশ্যই শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত।
আরফিন জামান রনি
ধনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ,
দ্বিতীয় বর্ষ, ধনিয়া, ঢাকা
