মিসরে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৪
মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির পদত্যাগের দাবি নিয়ে দেশটিতে এক চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সেনাবাহিনী মুরসিকে দেয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মুরসি পদত্যাগ করেনি। এই পরিস্থিতিতে গতকাল সেনাবাহিনী সব দলকে আলোচনায় ডাকলেও মুরসরি মুসলিম ব্রাদারহুড তাতে যোগ দেয়নি। তাদের ছাড়াই সেনাবাহিনী আলোচনা করে। এরপর সেনাবাহিনীর বিবৃতি দেয়ার কথা। মুরসি পদত্যাগ না করে জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান জানিয়ে জোট সরকার গঠন করে সমস্যার সমাধান করা যায় বলে তিনি তার ফেসবুক পেইজে জানান। এর আগে সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের জরুরি স্টাফ ছাড়া সকলকে টিভি সেন্টার থেকে চলে যেতে বলে। এরপর তারা টিভি সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। রাস্তায় রাস্তায় সেনা টহল দিতে দেখা যায়। অনেক স্থানে সেনবাহিনীর ট্যাঙ্ক দেখা যায়। মুরসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। গত বুধবার কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে মুরসির সমর্থকদের সমাবেশে গুলিতে অন্তত ১৬ জন নিহত ও দুইশ জন আহত হয়। আগের কয়েকদিনেও বহু লোক হতাহত হয়। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপির। রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য প্রেসিডেন্ট মুরসিকে বেধে দেয়া ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে মিসরের সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গতকাল জরুরি বৈঠকে বসেন। সামরিক বাহিনী এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো এই সংকটের সমাধান করতে ব্যর্থ হলে তারা হস্তক্ষেপ করবে। সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সন্ত্রাসী ও বোকাদের’ কাছ থেকে মিসরকে রক্ষার জন্য তারা মৃত্যুবরণ করতে প্রস্তুত। এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট মুরসি সেনাবাহিনীকে তাদের আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করে নেয়ার আহ্বান জানান। মিসরের ভবিষ্যত্ নিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর তৈরি করা একটি খসড়া রোডম্যাপের বিস্তারিত বিবিসির হাতে আসে, যেখানে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, সংবিধান স্থগিত এবং পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করার কথা বলা আছে। মুরসি ক্ষমতা থেকে সরে না দাঁড়ালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় পত্রিকা আল-আহরাম। সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা সম্পর্কে আল আহরাম জানায়, ভবিষ্যত্ কর্মপন্থা হিসেবে সেনাবাহিনী তিন সদস্যের একটি প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল গঠন করবে। এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হবে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের প্রধানকে। সেনা বাহিনীর রোড ম্যাপ অনুযায়ী একজন সামরিক নেতার নেতৃত্বে গঠন করা হবে একটি অন্তর্বতী নিরপেক্ষ সরকার।