রেশমাকে নিয়ে সানডে মিররের প্রতিবেদনটি বানোয়াট

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৭
রেশমাকে নিয়ে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড সানডে মিররের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সরওয়ার্দী। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে মিরর। আসুন বিদেশি যড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াই। গতকাল বুধবার বিকালে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি রেশমার উদ্ধার নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এটা বাংলাদেশের মর্যাদা, সম্মান, আবেগ, অনুভূতির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন সেনাবাহিনীর সঙ্গে ফাউল খেলবেন না। অনেক সময় ফাউল খেললে সে আঘাত নিজেদের ওপরেই আসে। উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল সাভারের নয় তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এ ঘটনায় এক হাজার ১৩১ জন নিহত হন। ভবন ধসের ১৭ দিন পর গত ১০ মে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে রেশমাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, যা সারা বিশ্বেই আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর গত ২৩ জুন দৈনিক আমার দেশ তাদের অনলাইনে সংস্করণে “রানা প্লাজা ট্রাজেডি: রেশমা ‘উদ্ধার’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ জুলাই যুক্তরাজ্যের ট্যাবলয়েড সানডে মিরর রেশমা উদ্ধারের ঘটনা ‘সাজানো’ বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সমপ্রতি মিররের বরাত দিয়ে বাংলাদেশর আটটি দৈনিকে ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি আরো বলেন, বাংলাদেশকে রক্ষা করুন। বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশিদের মর্যাদা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। আপনার?া আমাদের সহযোগিতা করুন। আসুন আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম রক্ষা করি এবং বিদেশি যড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনী কচুপাতার পানি নয়। আমাদের রয়েছে ৪৮ বছরের ঐতিহ্য। বিদেশি কোনো পত্রিকার কথায় অল্পতেই তা ধ্বংস হয়ে যাবে না। তিনি বলেন, যারা রেশমা উদ্ধারকে সাজানো নাটক বলছেন তারা আসলে ষড়যন্ত্রকারী। ওই প্রতিবেদনটি মিথ্যা দাবি করে মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সরওয়ার্দী বলেন, এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা। মিররের সাংবাদিক ওই এলাকায় যাননি। এটার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে মিরর। রানা প্লাজা ধসের পর থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছিল বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সানডে মিররের প্রতিবেদক সাইমন রাইট বাংলাদেশে এসে বিদেশে গিয়ে মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। রেশমাকে উদ্ধার নিয়ে ব্রিটেনের ‘সানডে মিরর’ ও ‘ডেইলি মেইলের’ প্রতিবেদনকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর আঘাত হিসেবেও অভিহিত করেন জিওসি বলেন, সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ডকে ভেঙে দেয়ার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের নির্জলা মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সানডে মিররের প্রতিবেদক সাইমন রাইট সাংবাদিক হিসেবে নয়, ভিজিটর হিসেবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। জিওসি বলেন, মিররযে কল্পকাহিনী ছেপেছে তা মিথ্যা। এটি দেশ ও সেনাবহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এ সংবাদে রাষ্ট্রে যে ক্ষতি হয়েছে সরকার মামলা করে সেই ক্ষতিপূরণ আদায় করবে। তিনি আরো বলেন, মিররের সাংবাদিক সাইমন রাইটেকে বাংলাদেশে যারা এনেছে তাদের খুঁজে বের করা হবে।