পরাজয়েও পাকিস্তানের প্রাপ্তি আসিফ

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ২১:১৫

স্পোর্টস রিপোর্টার

নিজেদের রেকর্ড নতুন করে লেখার উপক্রম করেছিল পাকিস্তান। রানবন্যার দিনে ইংল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া ৩৭৪ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল তারা। কিন্তু থেমে যেতে হয়েছে ৩৬১ রানে। ১২ রানে ম্যাচ জিতেছে ইংল্যান্ড। সামান্য এই ব্যবধানে পরাজয়ের পরও এই ম্যাচ থেকে পাকিস্তানের প্রাপ্তি হয়েছে আসিফ আলীর ব্যাটিং।

যদিও খুব বড় ইনিংস খেলেননি আসিফ। মিডল অর্ডারে ৩৬ বলে করেছেন ৫১ রান। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে তার এই মারমুখী ব্যাটিংই সন্তুষ্ট করেছে পাকিস্তানের কোচ মিকি আর্থারকে। তিনি বলছেন, এরকম একজন ব্যাটসম্যানের খোঁজে ছিলেন তারা। 

এবার ইংল্যান্ডে যে বিশ্বকাপে রান উত্সব হবে, তা যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত সবগুলো ওয়ানডেতেই বোঝা যাচ্ছে। আগে ব্যাট করা ইংল্যান্ড ৩৭৩ রান করে রান বন্যাটা শুরু করেছিল।

জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টোর উদ্বোধনী জুটি দারুণ চড়াও হয় পাকিস্তানের বোলারদের ওপর। ১৯ ওভার মেয়াদি এই জুটিতে ১১৫ রান তোলে তারা। রয় ৮৭ ও বেয়ারস্টো ৫১ রান করে ফেরেন। বেয়ারস্টো ফেরার পর জো রুট এসেও ৪০ রানের একটা ইনিংস খেলেন। এরপর ইংল্যান্ডকে রান পাহাড়ে পৌঁছে দেয় অধিনায়ক এউইন মরগ্যান ও জস বাটলারের অপরাজিত ১৬১ রানের জুটি। ১৪.৫ ওভারে এই মারাত্মক আগ্রাসী জুটি তছনছ করে ফেলে পাকিস্তানের বোলিং। শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ৭১ রান করে অপরাজিত থাকেন মরগ্যান। আর বাটলার ছিলেন আরও ভয়ানক। তিনি ৫৫ বলে ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায় ১১০ রান করে অপরাজিত থাকেন।

জবাবে পাকিস্তান বিনা উইকেটে ৯২ রান তুলে ভয়ানক এক জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ইনাম-উল-হক ৩৫ রান করে ফেরার পর বাবর আজম ও আসিফ আলী ৫১ করে রান করেন। আর ইনিংসটা ধরে রেখেছিলেন ১০৬ বলে ১৩৮ রান করা ফাখার জামান। শেষ দিকে অধিনায়ক সরফারজ ৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেও রান বলের সমীকরণে আর পেরে ওঠেননি।

শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচ হেরে গেলেও মিকি আর্থার তার দলের ব্যাটসম্যানদের চেষ্টায় সন্তুষ্ট। তিনি বিশেষ করে বাবর ও আসিফের ব্যাটিং নিয়ে বলছিলেন, ‘আমরা একটা ইউনিট হিসেবেই খুব ভালো ব্যাট করেছি। কিন্তু শেষ দিকে অল্প রানে পিছিয়ে পড়েছি। আসিফ আসলেই খুব ভালো খেলেছে। এর আগে ফাখারের সত্যিই দারুণ একটা ইনিংস ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। ও অসাধারণ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যটা পার করতে না পারা হতাশাজনক।’

এই হতাশা চেপেও আর্থার স্বীকার করলেন, তারা আসিফের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ। কারণ, এরকম কাউকে তারা খোঁজ করছিলেন, ‘আসিফ আজ অসাধারণ ছিল। এটা কোনো গোপন ব্যাপার নয় যে, আমাদের এরকম একজন পাওয়ার হিটিং করতে পারা ব্যাটসম্যানের অভাব আছে। সে কোনোরকম বিপদ ছাড়াই কাজটা কিভাবে করতে হয়, তা দেখিয়েছে।’