অভিনেত্রী মিতা নূরের সেই দুই ঘনিষ্ঠজনের সন্ধানে নেমেছে পুলিশ। মিতা নূরের স্বামী শাহনূর রহমান রানা ওই দুই জনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ বলছে, এই দু’জনের খোঁজ পাওয়া গেলে মিতা নূরের আত্মহননের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক তথ্য তাদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে।
ওই দুই জনের একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তার নামের আদ্যক্ষর ‘শা’। অপরজনও মিতা নূরের বান্ধবী। তবে তিনি অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত নন। মিতা নূরের এক বান্ধবী জানান, রানার এই অনৈতিক প্রেমে বাধা ছিলেন মিতা। মিতা নূরের সঙ্গে স্বামীর বিরোধের এটাই কারণ। ওই অভিনেত্রী মিতার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। প্রায়ই বাসায় আসতেন। মিতার মাধ্যমেই ওই অভিনেত্রীর সঙ্গে রানার পরিচয়। এভাবে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরে মিতা নূর যখন বিষয়টি জানতে পারে তখন স্বামীর সঙ্গে শুরু হয় ঝগড়া। এক পর্যায়ে গায়ে হাত, নির্যাতন। অন্য বান্ধবীর সঙ্গেও রানার পরিচয় ঐ অভিনেত্রীর মাধ্যমেই। এই বান্ধবীর সঙ্গেও যখন রানা পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তখন মিতা নূর মানসিকভাবে আরো ভেঙ্গে পড়েন। এই ব্যাপারে প্রতিবাদ জানালে রানা তাকে মারধর ও নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়।
ক্রমাগত শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে মিতা নূর তার স্বামীকে তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যান আইনজীবী এডভোকেট কহিনূর বেগমের কাছে।
এডভোকেট কহিনূর বেগম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, রানা প্রায়ই মিতা নূরকে নির্যাতন করতো। অন্য নারীর কাছ থেকে স্বামীকে ফিরিয়ে আনার জন্য মিতা নূর অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু স্বামী তার অন্ধকার পথ থেকে ফেরেনি। বাধ্য হয়ে স্বামীকে তালাক দেয়ার জন্য তার মাধ্যমে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মিতা নূরের ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা এই ব্যাপারে মধ্যস্থতা করেন। পরে রানা অঙ্গিকার করেন যে, তিনি আর এই ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক রাখবেন না এবং স্ত্রীকেও নির্যাতন করবেন না। এসময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন মিতা নূরের দুই ছেলে। বড় ছেলে মাকে বোঝাতে থাকেন। একপর্যায়ে খাওয়া-দাওয়া ও লেখা-পড়া বন্ধ করে দেয় বড় ছেলে প্রিয়। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে পরে মিতা নূর মামলাটি তুলে নেন। এরপর রানা ও মিতা নূর হজ্ব করতে চলে যান।
মিতার আরেক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী জানান, হজ্ব থেকে ফেরার পর একমাস তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু রানার চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই বেপরোয়া জীবনযাপন করতে থাকেন। পরে মিতার এমন এক ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন যা মিতা নূরের পক্ষে কোন অবস্থাতেই মেনে নেয়া সম্ভব ছিল না। এই ব্যাপারটিই কোনভাবে মানতে পারেননি তিনি। এ কারণেই হয়তো মিতা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে।
গুলশান জোনের উপপুলিশ কমিশনার লুত্ফুল কবির বলেন, মিতা নূরের আত্মহত্যার ঘটনার বিভিন্ন বিষয়গুলো অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের কয়েকজন সদস্যকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গুলশান থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, মিতা নূরের আত্মহত্যার ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পেতে মিতার বাবা ও ভাইসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু তারা কোন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেননি।
