রাজনীতিতে নতুন প্রজন্ম

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ১৮:১৬
রাজনীতিতে ক্রমেই আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। তারা রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়িকে সমর্থন করেন না, আবার উত্সাহ নিয়ে নেতৃত্ব দানে এগিয়েও আসছেন না। কিন্তু দেশকে এগিয়ে নিতে যেতে চাইলে রাজনীতিতে দরকার মেধাবী নতুন মুখ। এই নিয়ে আড্ডায় বসেছিলাম আমরা তিন তরুণ তুর্কী তৌশিক, অর্ণব আর রাকিবের সাথে। আড্ডার কথোপকথন নিয়েই তরুণকণ্ঠের এই আয়োজন। অর্ণব :আজকের পত্রিকা খুলেও অনেকগুলো দুঃসংবাদ চোখে পড়ল। আমাদের রাজনীতিবিদদের এসব বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। রাকিব :আরে আমাদের রাজনীতিবিদদের সে সময় আছে না কি! তারা ব্যস্ত তাদের নিজেদের আখের গোছাতে। নিজের ভাবনায় মগ্ন এই ব্যক্তিদের সময় কই যে তারা দেশ নিয়ে ভাববে, দেশের মানুষ নিয়ে ভাববে? তৌশিক :খুব তো রাজনীতিবিদদের দুর্নাম গেয়ে গেলি। জানিস! আজকের এই রাজনীতিবিদরাই তরুণ বয়সে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের জন্য স্বাধীনতা এনেছেন? রাকিব :মানলাম তারা স্বাধীনতা এনেছেন! কিন্তু এখন তো তারা আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারছেন না। পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি করলে আর রাজনৈতিক বিতর্ক করলেই রাজনীতিবিদ হওয়া যায় না। তৌশিক :তাদের পক্ষে তো নতুন নতুন ধ্যান-ধারণা আর চিন্তাভাবনা রাজনীতিতে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, তারা সেভাবে দেশ নিয়ে ভাবেন না। আমার মনে হয়, দেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিতদের দেশের কথা সবার আগে ভাবা উচিত। আরিফ :দুই বিতার্কিক যেন রাজনীতিবিদের নিয়ে বিতর্কে নেমেছে। তাদেরকে এতটা খারাপ বলার কিছু নেই। আর যদি পারিস, তোরা কেন রাজনীতিতে নামিস না? সৌমেন :পাগল হয়েছিস? রাজনীতির মাঠে নামি আর প্রতিপক্ষের গুলিতে অল্প বয়সে প্রাণ হারাই। অর্ণব :তাহলে শুধু রাজনীতিবিদদের দোষারোপ করে লাভ কী? বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার জন্য আমাদের নিজেদেরই প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তৌশিক :তুই কি আমাদের ছাত্র রাজনীতি করতে বলিস? অর্ণব :ছাত্র রাজনীতি করতে বলব কেন? আমরা কী নিজেরাই সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারি না? রাকিব :বিষয়টা আরেকটু খোলাসা করে বলবি? অর্ণব :বলতে চাইছি, আমাদের দেশের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি। তাই সবার সব চাহিদা পূরণ করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। অনেক সময় আমরাই পারি নিজ নিজ এলাকার সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা করে সে অনুযায়ী কাজ করার। রাকিব :হ্যাঁ, সেটা অবশ্যই ভালো একটা আইডিয়া। আমরা ইচ্ছে করলে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারি। সৌমেন :আর এটা অবশ্যই সম্ভব যদি তরুণ প্রজন্মকে একত্রিত করা যায়। নতুন প্রজন্ম চিন্তাভাবনায় অনেক অগ্রসর, অনেক আধুনিক। কেউ শুভবুদ্ধি নিয়ে এগিয়ে এলে সে অবশ্যই সমর্থন পাবে। অর্ণব :সেটাই। আমাদের সবারই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে। তাহলেই সম্ভব রাজনীতির ধারণাটা পাল্টে দেওয়া। রাকিব :তাহলেই আমরা পারব নিজেদের মনের মতো বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। তৌশিক :আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, আমরা যেদিন দেশ চালাব, সেদিন বাংলাদেশ হবে অনেক সুন্দর।