মাইকেলের ইনকাম ডায়েরি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ১৮:১৮
প্রাত্যহিক জীবনের আয়-ব্যয়ের হিসেবটা যদি খাতায় রাখার পাশপাশি তুলে রাখা যেত অনলাইনে, বেশ সুবিধে হতো! তবে অনলাইনে এই ধরনের আপডেট করতে গেলে প্রয়োজন কোনো ডকুমেন্ট কিংবা এ ধরনের কোনো সাইট। ঠিক এই প্রয়োজনটির সমাধানই দিয়েছেন প্রতিভাবান এই তরুণ ডেভেলপার মাইকেল। ‘ইনকাম ডায়েরি’ নামের একটি সাইট নিয়ে পথচলার শুরু তার। বর্তমানে তার এই ওয়েবসাইটের সাবস্ক্রাইবার প্রায় দশ হাজার। তার কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম স্কুলের পড়াশোনা খুব বেশি তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। নিজের একটা ছোট্ট জগত নিয়ে থাকতেই ভালোবাসতেন তিনি। একসময় ছেড়ে দেন পড়শোনা। এরপর কী হবে? এ নিয়ে তার বাসায় শুরু হলো ঝড়। কিন্তু তিনি আগে থেকেই মনস্থির করে ফেলেছিলেন ব্যবসা করবেন। সেই লক্ষ্যে খুলে ফেলেন একটি ওয়েব সাইট। অবশ্য তখনও জানতেন না, এই ওয়েব সাইটই তাকে নিয়ে যাবে বহুদূর। এরপর তিনি শুরু করেন ব্লগ লেখার কাজ। একসময় তিনি তার ব্লগে ডিক্লিয়ার করেন, এখানে নিজের অটোবায়োগ্রাফি সংযুক্ত করবেন এবং নাম দেবেন—‘অ্যান্ড আই থট মাই সেলফ’। কিংবা এমনই সংক্ষিপ্ত কিছু। তার স্বপ্নের মতোই সেটা পরিবর্তন হতে থাকবে, সময়ের সাথে সাথে। সাধারণত সবাই দৈনন্দিন যা করে সেইসব নিয়ে আলাপ করে তাদের ব্লগে। কিন্তু তিনি এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তিনি মনে করেন, ‘আমি কী করতে যাচ্ছি অথবা ভবিষ্যতে আমার অবস্থান কোথায় দেখতে চাই’ সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সম্পর্কে আরও অনেক কথাই বলেছেন তার ব্লগে। সেখানে তার স্বপ্নের কথাও আছে। তিনি জানান, স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন আর নেতৃত্বের পর্যায়ে দেখতে চান নিজেকে। তবে তিনি নিজের পরিচয় দিয়েছেন একজন ‘ইন্টারপ্রেনার’ অর্থাত্, উদ্যোক্তা হিসেবে। মানুষ যেসব কাজ করতে ভালোবাসে ও আত্মতৃপ্তি পায় তাদের সেসব কাজে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। সেখানেই তিনি মূলধন বিনিয়োগ করেন। আর এ কাজটিই একজন আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে মাইকেলকে। এক্ষেত্রে তিনি সৃজনশীল কাজগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। শুধু আর্থিক ভাবে পাশে দাঁড়ানো নয়, চিন্তা-চেতনা দিয়েও তিনি সৃজনশীল মানুষগুলোকে সাহায্য করেন। উল্লেখ্য, তিনি সিনিয়র স্কুলে থাকার সময়ই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। যদিও তার বর্তমান কার্যক্রম আবর্তিত হচ্ছে ব্যবসাকে ঘিরে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অনাগ্রহ থাকলেও মাইকেল সবসময় পড়াশোনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা কখনোই শেষ হয় না। এটা বোঝা যায় নিজের পছন্দের বিষয়টি পড়তে গেলে। আর মন দিয়ে পড়লে অনেক কিছুই শেখা যায়।’ আগেই বলা হয়েছে মাইকেল খুব অল্প বয়সেই ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে সেটা ছিল কিছুটা আনন্দের উত্স। তার প্রথম ব্যবসায়িক উদ্যোগ ছিল একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন। তিনি ও তার বন্ধুরা মিলে এর উদ্যোগ নেন। প্রতিযোগিতাটি দেখার জন্য ছিল টিকেটের ব্যবস্থা অর্থাত্ এন্ট্রি ফি। আর এ আয়োজনের প্রতিযোগিতাগুলো ছিল বিনোদনধর্মী। এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থাও রেখেছিলেন তারা। তাদের এই উদ্যোগটি সফল হয়। প্রতিযোগিতার অনেক টিকেট বিক্রি হয়। সাফল্যের মুখ দেখে উদ্যোগটি। এ আয়োজন দিয়েই তিনি যথেষ্ট নাম কামিয়ে ফেলেন। এখান থেকেই তার যাত্রা শুরু। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজও শুরু করেন প্রফেশনালি। তার প্রথমদিকের করা একটি ওয়েব সাইটের মধ্যে রয়েছে ‘মেডিটেশন রকস ডট ইউএস’ নামের একটি সাইট। এখানেও তিনি সাফল্য পেয়েছেন। সম্প্রতি তিনি টিনেজদের উপর একটি ইলেক্ট্রনিক ম্যাগাজিন লেখার কাজ করছেন। তার আরও উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ইয়ং টিনেজদের নিয়ে সিনেমা বানানোর কাজ। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত আছেন ‘ফ্রেন্ডস :দ্য মুভি’ সিনেমা নিয়ে। নাম শুনেই বোঝা যায়, বন্ধুদের নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে সিনেমাটি। মাইকেলের ব্লগ থেকে শেষ খবর পাওয়া গেছে, খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে এর দৃশ্য ধারণের কাজ।