কী করে এলো

সুইমিংপুল

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ১৮:৩৮
স্বচ্ছ আর আরামদায়ক জলের মাঝে দু’দন্ড গা ভাসিয়ে দিতে কার না ভালো লাগে! আর ব্যস্ত নগরজীবনে মানুষের জন্য এমনই জলভাসানের সুযোগ করে দেয় সুইমিংপুল। একটা সময় ছিল যখন নগর জীবনধারায় সুইমিংপুলের স্থান ছিল শুধুমাত্র বিলাসবহুল হোটেল কিংবা ক্লাবের আঙ্গিনায়। তবে সময়ের পালাবদলে এখন অনেক বাড়ি কিংবা অ্যাপার্টমেন্টের চৌহদ্দীতেও দিব্যি জায়গা করে নিয়েছে নানা আকারের সব সুইমিংপুল। মজার বিষয় হলো, বর্তমানে সাতার কাটার পাশাপাশি সাতার শেখা আর স্বাস্থ্যকর ব্যয়ামের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে সুইমিংপুলের বাড়তি কদর থাকলেও আজ থেকে প্রায় হাজার চারেক বছরেরও বেশি সময় আগে তৈরি হওয়া সুইমিংপুলের উদ্দেশ্যটা কিন্তু ছিল কেবলই মানুষকে চিত্ত-বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়া। আর তার চাইতেও মজার বিষয় হলো বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাস ঘেটে প্রথম দিককার যে সুইমিংপুল ধারণাটির সন্ধান পাওয়া যায় তার অবস্থান কিন্তু ছিল আমাদের এই উপমহাদেশেই। অধিকাংশ প্রত্নতত্ত্ববিদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ সালে তৈরি হওয়া বিশ্বের প্রথম সুইমিংপুলটি ছিল বর্তমান পাকিস্থানের সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা মহেঞ্জোদারো সভ্যতায়। প্রাচীণ সভ্যতায় যেখানে চিত্ত বিনোদনের অনেক কিছুই তোলা ছিল সমাজের অভিজাত অংশের জন্য সেখানে এই সুইমিংপুলটি কিন্তু একেবারেই ব্যতিক্রম ছিল। কেননা এটি যে সাধারণ মানুষের জন্যই বানানো হয়েছিল সেটিও মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে প্রত্নতত্ত্ববিদদের গবেষণা থেকেই। এর গভীরতা ছিল প্রায় আট ফুট। আর দৈর্ঘ্য-প্রস্থে এর বিস্তৃতি ছিল বারো মিটার বাই সাত মিটারের মতো। সেকালে পানিকে একেবারে রাসায়নিক দিয়ে বিশুদ্ধ করার উপায় হয়তো ছিল না। কিন্তু সুপ্রাচীণ সেই সময়েও যে মানুষেরা সুইমিংপুলের পানিটাকে পরিস্কার রাখার কথা ভেবেছিলেন তার প্রমাণ মেলে মহেঞ্জোদারোর এই সুইমিংপুল থেকে দূষিত পানি ব্যবহার করে দেওয়ার ব্যবস্থা দেখে। এ ছাড়া একেবারে হাল আমলের সুইমিংপুলের মতো গরম পানির ব্যবস্থাও ছিল সেই সুইমিংপুলে। এ ছাড়া কেউ কেউ এটাও দাবি করে থাকেন যে এই সুইমিংপুলের লাগোয়া স্থানে বাষ্পস্নান বা স্টিমবাথের সুযোগও চালু করেছিল প্রাচীণ মহেঞ্জোদারোর মানুষেরা। বলা বাহুল্য, সেই প্রাচীণ ধারণা ক্রমে ক্রমে আরও পূর্ণতা পেয়ে আজকের আধুনিক সুইমিংপুলে রূপ নিলেও খুব একটা বড় পরিবর্তন আসেনি। অন্যদিকে সুইমিংপুলের গভীরতা ক্রমে ক্রমে বাড়ানো বা ক্লোরিনের মতো রাসায়নিক দিয়ে পানি বিশুদ্ধকরণের মতো ধারণাগুলোর উদ্ভব ঘটে গেল দুই শতকেরও কম সময়ে।