আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সীমান্ত জেলা দিনাজপুরে সক্রিয় হয়ে উঠছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ জেএমবি’র সদস্যরা। যদিও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, জঙ্গিবাদ দমনে তত্পর রয়েছেন তারা। গত এক মাসের ব্যবধানে দিনাজপুরে নাশকতার পরিকল্পনাকালীন আট জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম জানান, গত প্রায় এক মাসের ব্যবধানে চারটি নাশকতা পরিকল্পনা করাকালীন আটজন জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে গত ৯ নভেম্বর দিনাজপুরের রাজবাটী এলাকা থেকে নাশকতার পরিকল্পনা করাকালীন সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরকসহ তিন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২২ নভেম্বর দিনাজপুর সদর উপজেলার সিকদারহাট এলাকায় র্যাব অভিযান চালিয়ে শীর্ষ জেএমবি নেতা আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর বালুবাড়ী এলাকা থেকে দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও গত ৮ নভেম্বর আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরকসহ দুই জেএমবি সদস্যকে আটক করে র্যাব।
তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জঙ্গিরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। জঙ্গিদের এ অপতত্পরতা রোধে জেলা পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। জঙ্গি তত্পরতা রোধে ইতোমধ্যেই একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় জঙ্গিবাদের বিস্তার নির্মূল করতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও জঙ্গি প্রতিরোধে কাজ করছে।
জেলায় সর্বাধিক জঙ্গি অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) বজলুর রশিদ। তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জঙ্গিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জঙ্গিরা তাদের অপতত্পরতা সফল করতে পারবে না বলে জানান তিনি। দিনাজপুর নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলা নিষ্পত্তি করে জড়িতদের সাজা প্রদান এবং মূল ঘটনা উদঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও আন্তরিক হতে হবে।
