বড়পুকুরিয়া খনি এলাকায় যত্রতত্র কয়লা ডাস্টের স্তূপ

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৯
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকায় যত্রতত্র কয়লার ডাস্টের স্তূপ বানিয়ে ব্যবসা করার ফলে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বায়ু দূষণের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে খনি এলাকার জনস্বাস্থ্য। সরেজমিন দেখা যায়, বড়পুকুরিয়া খনি এলাকায় শতাধিক ডাস্ট ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ৫০ গজ দূরেই রাস্তার ধারে যত্রতত্র কয়লার ডাস্টের স্তূপে পুরো এলাকা ভরে গেছে। এই স্তূপগুলো থেকে ঐ এলাকার শতাধিক ব্যক্তি বিক্রি করছে কয়লার ডাস্ট। কয়লা খনি থেকে উত্তোলিত পানিতে ঐ ডাস্ট চলে আসে। এ পানি ড্রেন দিয়ে বাহিরে বের করে দেয়ার সময় কিছু সংখ্যক দিনমজুর ও মহিলা জাল কিংবা কাপড় দ্বারা ডাস্ট আহরণ করে। পাশেই রেলওয়ের জায়গা দখল করে খাল খনন করে কিংবা নিজের জমিতে খাল করে কেউ কেউ খনির পানি রেখে কয়লার ডাস্ট আহরণ করছেন। ঐ ডাস্ট রাস্তার ধারে কিংবা কোন মিল চাতালে শুকিয়ে তা আবার কয়লা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেকে জমি থেকে মাটিসহ কয়লার ডাস্ট তুলে এনে বিক্রি করছে। এই ডাস্টের মূল্য তুলনামূলক কম হওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা ডাস্টের সাথে মিশিয়ে গ্রাহকের কাছে বুঝিয়ে দিচ্ছে। ডাস্ট আহরণকারী ঐ মজুরেরা দিনে ১৫০ হতে ২০০ টাকা মজুরি পেলেও আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যাচ্ছে এর সাথে জড়িত কয়লা ব্যবসায়ীরাও। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যারা সরল বিশ্বাস নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঐ ব্যবসায়ীদের নিকট কয়লা ক্রয় করছে। এদিকে গ্রাম এলাকায় ও রাস্তার ধারে যত্রতত্রভাবে ডাস্টগুলো স্তূপ করে রাখায় তা বাতাসে ভেসে মানবদেহে প্রবেশ করছে। এতে পথচারী ও বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যহানি ঘটছে। ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পার্বতীপুর হলদীবাড়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, খনি এলাকার অধিকাংশ মানুষ শ্বাস কষ্টে ভুগছেন। তারা প্রায়সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে ভিড় জমাচ্ছে। জানা গেছে, ঐ এলাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করে কয়লা খনির কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে গোপন চুক্তির বিনিময়ে কয়লা খনি থেকে সেচকৃত পানি তাদের নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে এই ডাস্ট উত্তোলন করছে। কেউ কেউ ডাস্টের ব্যবসা করে এখন কোটিপতি হয়েছে। অথচ তাদের ব্যবসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঐ এলাকার বাসিন্দাসহ পথচারীরা। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা খনি এলাকায় পরিদর্শনে না আসায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যবসা। যত্রতত্র রাখা ডাস্টের স্তূপগুলো জনবসতি এলাকা ও রাস্তার ধার থেকে স্থানান্তর না করা হলে ঐ এলাকায় জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এ বিষয়ে ডাস্টের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়ে দেন, আমরা উপর মহলকে ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা করে আসছি। আর যেখানে ডাস্ট রেখেছি সেই জায়গাগুলো আমাদের নিজস্ব এবং ভাড়াকৃত।