জয়-পরাজয়ের কারণ হতে পারে যেসব বিষয়

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ২৩:৩৮
মেয়র নির্বাচনে মূল লড়াইটা হবে আজমত উল্লা খান ও এমএ মান্নানের মধ্যে। দুই প্রার্থীরই পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে জোর প্রচারণা। গাজীপুর জুড়ে মানুষের মাঝে সে ইস্যুগুলো নিয়েই চায়ের দোকানে, দলবদ্ধ আড্ডায় জমে উঠেছে বিতর্ক। তবে যুক্তি-তর্ক যাই হোক না কেন আজ রাতেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে কার মাথায় উঠবে বিজয়ের মুকুট। আজমত উল্লা খানের জয়ের পক্ষে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে সেগুলো হলো-তিনি সদালাপী, মানুষ সহজে তার কাছে যেতে পারে। তার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির অভিযোগ নেই, পরিচ্ছন্ন ইমেজ। তিনি টঙ্গী থাকেন, এলাকার মানুষ তাকে সহজেই কাছে পায়। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে খুবই শক্তিশালী। তিনি একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ পৌর মেয়র ছিলেন। অপরদিকে তার নেতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে, তিনি সরকারি দলের সমর্থিত প্রার্থী হওয়ায় নানা জাতীয় ইস্যুতে সরকারের ব্যর্থতার দায় এ নির্বাচনে তার বিপক্ষে যেতে পারে। জাহাঙ্গীর ইস্যুও তার পিছু ছাড়ছে না। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও জাহাঙ্গীরের প্রতীক ব্যালটে রয়ে গেছে। অধ্যাপক মান্নানের জয়ের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে সেগুলো হল-সরকারের নানা ক্ষেত্রে ব্যর্থতা, হলমার্ক, ডেসটিনি, পদ্মা সেতু, শেয়ার মার্কেট কেলেংকারি, জিএসপি সুবিধা বাতিল, তাজরীনে অগ্নিকাণ্ড, সাভারে ভবন ধস প্রভৃতি জাতীয় ইস্যু তার পক্ষে রয়েছে। তিনি গাজীপুরের বাসিন্দা। তিনি ১৯৯১ সালে দেশের মধ্যে সবচে বেশি ভোট পেয়ে এমপি হন। তিনি সমগ্র গাজীপুরে সমানভাবে পরিচিত, রয়েছে শক্ত অবস্থান। সাংগঠনিকভাবে বিএনপি তাকে বিজয়ী করতে বিভেদ ভুলে একজোট হয়ে কাজ করছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জাহাঙ্গীর ইস্যু তাকে বাড়তি সুবিধা এনে দেবে। অপরদিকে মান্নানের বিপক্ষে প্রচারণা হলো প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে হজ্বের টাকা নিয়ে দুর্নীতি করেছেন, কলেজে প্রভাষক হয়েও দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি যাবার পরেও ‘অধ্যাপক’ পদ নামের সঙ্গে ব্যবহার করছেন এবং সম্প্রতি আয়কর ফাঁকির বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারণায় তার বিপক্ষে প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া তিনি ঢাকায় থাকেন, এলাকায় কম থাকেন, লোকজন তাকে কম কাছে পায়। এসব বিষয় তার বিপক্ষে যেতে পারে।