জয়পুরহাটে টিসিবির ১১ ডিলার পণ্য তোলেনি!

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ২১:৪১

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

রমজান মাসে জেলার হাট-বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে ন্যায্যমূল্যের টিসিবির পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও ১১ জন ডিলারের মধ্যে আটজন ডিলার এখনো পণ্য উত্তোলন করেনি। পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকেই ক্রেতাসাধারণের জন্য টিসিবির পণ্য বিক্রির নিয়ম থাকলেও সরকারের এই নিয়ম মানা হয়নি। স্থানীয় টিসিবির ডিলার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে চিনি ৪৭ টাকা কেজি, মশুর ডাল ৪৪ টাকা কেজি, ছোলা বুট ৬০ টাকা কেজি, খেজুর ১৩৫ টাকা কেজি এবং  সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা লিটার। একজন ডিলারের প্রতিদিনের বরাদ্দ হচ্ছে চিনি ৫০০ কেজি, তেল ৪০০ লিটার, মশুর ডাল ১৫০ কেজি, ছোলা বুট ৫৫০ কেজি ও ৫০ কেজি খেজুর। 

শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে টিসিবির মোবাইল পণ্যের ট্রাক থেকে লাইন ধরে ক্রেতাসাধারণকে ন্যায্যমূল্যের পণ্য কিনতে দেখা যায়। ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পেরে খুশি বলে জানান ক্রেতা হারুনুর রশিদ, রুখসানা পারভিন, সেলিম , আমেনা বিবি, এনামুল হক, হারুনুর রশিদ, শাখাওয়াত হোসেন।

ডিলার জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। আবার রাজশাহী টিসিবির মালামাল বিক্রয় কেন্দ্র থেকে তিনদিনে পণ্য দেওয়া হয়। এতে ট্রাক ভাড়া বেশি পড়ছে। সাতদিনের মালামাল একবারে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং কমিটি সদস্যরা শনিবার জেলা শহরের বিভিন্ন বাজার পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় চেম্বার অব কমার্স প্রতিনিধি, পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও বাজার মনিটরিং কর্মকর্তাসহ অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধি বাজার মনিটরিং কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। এসময় নিম্নমানের পণ্য বিক্রি ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য রাখার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তিনটি প্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা টিসিবির ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভাই-বোন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, জেলায় ১১ জন টিসিবি মনোনীত ডিলার রয়েছেন। এরমধ্যে ভাই-বোন এন্টারপ্রাইজ, রনি এন্টারপ্রাইজ ও দিদারুল অ্যান্ড সন্স এন্টারপ্রাইজ নামে তিনজন ডিলার তাদের পণ্য উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি করলেও বাকি আটজনই এখনো পণ্য উত্তোলন করেননি।

টিসিবির ডিলাররা এখনো কেন পণ্য উত্তোলন করেননি বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায়।