দারিদ্র্য হ্রাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত পিছিয়ে কর্মসংস্থানে

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৯
২০১৫ সাল নাগাদ সহস াব্দ লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশের অর্জন প্রায় কাছাকাছি রয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে রয়েছে কর্মসংস্থান তৈরিতে। তাছাড়া টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতসহ কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিতে নেই। ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন : অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০১২’-তে এ তথ্য উঠে এসেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আজ রবিবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বাংলাদেশের এমডিজি অর্জনের এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হবে। জিইডিসূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত এমডিজি অর্জনে দারিদ্র্য বিমোচন, প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি এবং মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার কমানোসহ কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের সাফল্য প্রশংসনীয়। কিন্তু লক্ষ্য অনুযায়ী কর্মসংস্থান তৈরি, প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধ করা, উচ্চশিক্ষায় নারী-পুরুষ সমতা, নারীর ক্ষমতায়নসহ টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অর্জনে এখনও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। টেলিফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার এখনো আশানুরূপ নয়। জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০০০ সালে ২০১৫ সাল মেয়াদী আটটি উন্নয়ন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু মৃত্যুর হার কমানো, লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন, সংক্রামক রোগ, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং টেকসই পরিবেশ এ আটটি বিষয় অর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়। আর ভিত্তি বছর ধরা হয়েছে ১৯৯০-৯১ অর্থবছরকে। জিইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দারিদ্র্য বিমোচনে এরই মধ্যে বাংলাদেশ তার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে। ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার সাড়ে ২৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করছে। যে হারে দারিদ্র্য কমেছে তাতে প্রাক্কলিত হিসাবে ২০১২ সালেই বাংলাদেশ ভিত্তি বছরের তুলনায় দারিদ্র্য হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে ১৫ বছর থেকে ঊর্ধ্বে বয়সীদের শতভাগ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার সংশয় রয়েছে। বর্তমানে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে চাকরির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে ৫৯ শতাংশ মানুষ। ২০১৫ সালের মধ্যে সকলের জন্য কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাকি দুই বছরে তা অর্জন নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তিতে বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের কাছাকাছি রয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হলেও অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে পারছে না। এর আগেই অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। সবশেষ হিসাবে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করছে। শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হলে বাকি দুই বছরে আরো প্রায় ২১ শতাংশ শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়া থেকে বের করে আনতে হবে। এছাড়া শতভাগ বয়স্ক শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্য অর্জনেও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সবশেষ হিসাবে ৬০ শতাংশ মানুষ বয়স্ক শিক্ষা শেষ করেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা অর্জন হয়েছে। ২০১৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুই বছর আগেই এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকেও নারীরা এগিয়ে গেছে। তবে কৃষি ছাড়া অন্যান্য সেবা খাতে নারীদের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থান ২০ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করছে। আগামী ২০১৫ সাল নাগাদ এটি ৫০ শতাংশে উন্নীত করার কথা রয়েছে। কিন্তু এ লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার এখনো আশানুরূপ নয়। টেলিফোন বা টিএন্ডটি ব্যবহারের সংখ্যা খুবই কম। প্রতি হাজারে ৭৫ জন মানুষ টেলিফোন ব্যবহার করছে। প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ২০ জন মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। পরিবেশের স্থিতিশীলতা ও বনায়ন নিশ্চিত করতে বেশ চ্যালেঞ্জ রয়েছে বাংলাদেশের জন্য। আগামী দুই বছরের মধ্যে সারা দেশে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বনায়ন করা সম্ভব হবে না। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ শতাংশ ঘনত্বের গাছ আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ মাত্র ১৯.৪ ভাগ। ২০১৫ সালের মধ্যে বনায়নে গাছের ঘনত্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে ৭০ শতাংশ। সেই হিসাবে এ লক্ষ্য অর্জন করা দুরূহ।