গতকাল শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মহিলাসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষের ১২টি ঘর ভাংচুর ও লুটতরাজ করেছে দাঙ্গাবাজরা। এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে গত কয়েক মাস আগে ইরি জমিতে সেচ দেয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামের সরকার বাড়ির ইসহাক মাস্টার লোকদের সাথে একই এলাকার রফুর বাড়ির রাজু মিয়া সর্দারের লোকদের সংঘর্ষ হয়। সালিসের রায় নিয়ে দুই গোষ্ঠীর লোকদের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা দেখা দিলে গ্রামবাসী গতকাল সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে পুনরায় সালিসের দিন ধার্য করে। সালিসের কথা অমান্য করে গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ইসহাক মাস্টারের লোকজন প্রতিপক্ষ রাজু সর্দারের লোকদের বাড়িতে হামলা চালালে দুই গোষ্ঠীর লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় গোষ্ঠীর মহিলাসহ শতাধিক লোক আহত হয়। পুলিশ ব্যাপক লাঠিপেটা করে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে ৬০ জনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিত্সা নেন।
সরাইলে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ২০
গত শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ২০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বিএনপির ২৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাবেক মন্ত্রী ও সরাইল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক উকিল আবদুস সাত্তার ভুঁইয়া গত শুক্রবার তার নিজ গ্রাম পরমানন্দপুরে থেকে জেলা সদরে ফেরার পথে রাত সাড়ে আটটায় সরাইল বাজারে পৌঁছেন। এসময় বিএনপির একটি গ্রুপের নেতা আবদুর রহমান সমর্থিত নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত সাড়ে নয়টায় আবদুর রহমান সমর্থিত গ্রুপের ডিএম দুলাল ও ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক জহিরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি সদরের দিকে যাবার সময় উকিল সাত্তার সমর্থিত কিছু যুবক পেছনের দিক থেকে ধাওয়া করে। শুরু হয় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ। কিছুক্ষণ পর সরাইল বাজার ও অফিস পাড়ায় দুই গ্রুপের কয়েক শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
