জরুরি বিভাগে ডাক্তার না থাকা, ওয়ার্ডবয় দিয়ে সার্জারির কাজ করানো, বকশিসের নামে রোগীদের বিরক্ত করা, ডাক্তার-নার্স সংকট ও নতুন কমপ্লেক্স ভবন অজ্ঞাত কারণে উদ্বোধন না করাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ওপর নির্ভরশীল উপজেলার চরাঞ্চল বেষ্টিত ৩ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক লোকজন। কিন্তু দেখার কেউ না থাকায় সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। ২৮ জুন সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় জরুরি বিভাগে সার্জারি ডাক্তার নেই। ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডাক্তার আসেননি। দায়িত্বে থাকা সহকারী সার্জন অজ্ঞাত কারণে হাসপাতালে আসেননি। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়ার জন্য রয়েছেন শুধু একজন মেডিক্যাল অফিসার ফিরোজউদ্দীন। তার সাথে কথা হলে ডাক্তার না থাকার সঠিক কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। ঐদিন বিকালে কচুয়া ইউনিয়নের উল্যা সোনাতলা গ্রামের মিনহাজ (৩২) পায়ের একটি অংশে কাটা নিয়ে হাসপাতালে আসেন চিকিত্সার জন্য। তার পায়ে সেলাই করেন ওয়ার্ডবয়ের দায়িত্বে থাকা আনোয়ার হোসেন। অথচ সার্জারি ডাক্তারের এই সেলাই করার কথা। একইদিন সকালে আরো অন্যান্য রোগী হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে এসে জরুরি বিভাগে ডাক্তার পাননি। এদিকে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ একেবারে নোংরা। এছাড়া ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে নতুন ভবনের কাজ ১ বছর আগে সম্পন্ন হলেও অজ্ঞাত কারণে তা উদ্বোধন হচ্ছে না। এসব ব্যাপারে কথা বললে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফরহাদ আলম জানান, লোকবলসহ নানা সমস্যার কারণে নতুন ভবন উদ্বোধন করা সম্ভব হচ্ছে না। ওয়ার্ডবয় দ্বারা রোগীর সার্জারি কাজ সারা ও জরুরি বিভাগে ডাক্তার না থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তথ্য সঠিক হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একটু সমস্যা থাকতে পারেই বলে তিনি জানান।
