গৌরনদীতে হাত বাড়ালেই মাদক

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৩, ২২:১০
গৌরনদীর সর্বত্র চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য। এখন হাত বাড়ালেই ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা পাওয়া যাচ্ছে সর্বত্র। এ অপরাধ কর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিসহ প্রভাবশালীরা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গৌরনদী সার্কেলের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এর প্রসারতা দিনদিন বাড়ছে বলে অভিযোগ। পুলিশের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেয়ার অভিযোগ। এ সব কারণে পরিস্থিতি দিনদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। নেশার ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। এলাকায় বাড়ছে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণসহ নানা অপরাধ। বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, গৌরনদীর প্রায় ৩০টি স্পটে অবাধে মাদক বেচা -কেনা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী গৌরনদীর বিভিন্ন স্থানে ৩৫/৪০ জন মাদক বিক্রেতা দেদারছে মাদক বিক্রি করছে। মোটরসাইকেল নিয়ে মাদক আসক্তরা হাজির হয় এসব স্পটে। পুলিশ এসব স্পট থেকে নিয়মিত মাসোহারা পেয়ে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে মাসোহারা না পেলে চলে পুলিশের অভিযান। বর্তমানে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন গৌরনদীর ৪ জন জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তি। এরা সর্বত্র গড়ে তুলেছে মাদক বিক্রির সিন্ডিকেট। র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ বিক্রেতাদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলেও আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে আটককৃতরা জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় এ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে। গৌরনদীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নামে মাত্র একটি সার্কেল অফিস থাকলেও তাদের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম মাসোহারা নেয়ার কথা অস্বীকার করে জানান, আমরা অত্র এলাকার মাদক ব্যবসায়ী জাফর আকন, নানু মেম্বারকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করেছিলাম, কিন্তু জামিনে এসে তারা পুনরায় একই ব্যবসা শুরু করেছে। গৌরনদীর পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমান ক্ষোভের সাথে জানান, পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে মাদকের প্রসারতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।