গাজীপুর সিটির নগরপিতা নির্বাচন করল নগরবাসী। বৃষ্টিতে ভিজে আর রোদে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করল তারা এই নির্বাচন প্রক্রিয়া। সকালের দিকে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি দেখা গেলেও দুপুরের পর থেকেই কমতে থাকে তা। অনেক কেন্দ্র দুপুরের আগেই একেবারে ফাঁকা হতে দেখা যায়। প্রধান দুই দল সমর্থিত প্রার্থী ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ বলেছেন।
ভোটগ্রহণ শেষে গতকাল বিকালে আজমত উল্লা খান ইত্তেফাককে বলেন, ফলাফল যাই হোক মেনে নেব। ভোট গ্রহণ শেষে এম এ মান্নান-এর সাথে কথা বললে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ফলাফল না আসা পর্যন্ত মন্তব্য করা যাবে না।
গতকাল গাজীপুরের টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শান্তিপূর্ণভাবে সকলে ভোট দিয়েছেন। ভোট কেন্দ্রের বাইরে এবং ভেতরে অল্প কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বেশিরভাগ ভোটার স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ভোট কেন্দ্রের মধ্যে প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকেও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্তই সকল প্রার্থীর এজেন্টরা ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করেছেন।
সকাল আটটার আগেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটাররা উপস্থিত হতে থাকে। বাড়তে থাকে ভীড়। তবে সে ভীড় আবার দুপুরের পরে একেবারেই কমে যায়। সকালের দিকে বৃদ্ধ, তরুণ, মধ্যবয়সী সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এসে ভোট দেয়ার লাইনে দাঁড়িয়েছেন। নোয়াগাঁও এমএ মজিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে টেলিভিশন প্রতীক এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয় তাদের পক্ষ থেকে। এই স্কুলে মোট তিনটি কেন্দ্র। বেলা ১২টার দিকে এই কেন্দ্রে সরেজমিন গেলে দেখা যায়, দুই নম্বর কেন্দ্রে একজনও ভোটার নেই। দুই হাজার ভোটারের মধ্যে ১২টা পর্যন্ত মাত্র ৫৭০টি ভোট নেয়া হয়েছে। এক নম্বর কেন্দ্রে তিন হাজার ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ৯০০।
সকাল ৯টায় টঙ্গী লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে ভোট দেন আজমত উল্লা খান। ভোট দিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট নেয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় শেষে যে ফলাফলই হোক না কেন আমি তা মেনে নেব। আজমত উল্লাহ সকালে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি জনগণের জন্য। নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে আমি জনগণের জন্যই কাজ করব। তবে জনগণ যাকেই নির্বাচিত করুক, আমি তা মেনে নেব।
অপর মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল মান্নান ভোট দিয়েছেন সালনা ইসলামীয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। তিনিও ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। আমি আশা করি আমার প্রতীক টেলিভিশনের জয় হবেই। কছিমউদ্দিন কমার্স কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা স্থানীয় নাজমা বেগম (৩৫) ও শামীমা আক্তার (৩০) বলেন, বৃষ্টি উপেক্ষা করেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছি। এই কেন্দ্রে মোট দুই হাজার ৫০০ ভোটারের মধ্যে এক হাজার ৮০০ ভোটার ভোট দিয়েছে।
