প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জনগণের ভোটের রায় মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘গাজীপুরের সাধারণ মানুষ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ সকলকে অনুরোধ করি ভোট মেনে নিয়ে দেশের গণতন্ত্রের ঐতিহ্য রক্ষা করুন। সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার ঐতিহ্য ধরে রাখুন।’ গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সিইসি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। নির্বাচনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, ভোটের পর গাজীপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখনো সতর্ক অবস্থায় আছে। নির্বাচন চলার সময় যেসব অভিযোগ উঠেছিল সেগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে। যেখানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, সেখানে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গণমাধ্যম স্বচ্ছ দৃষ্টি রাখায় দেশ-বিদেশে সবাই নির্বাচন সম্পর্কে জানতে পেরেছে। আমরা মানুষকে ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে রেখে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে পেরেছি। দিনভর সংবাদ মাধ্যমগুলোয় নির্বাচন সম্পর্কে তথ্য প্রচার করায় তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।
এর আগে আজ বেলা তিনটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লা বুলু ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি) নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানান। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে এম কে আনোয়ার অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে সরকারি কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে বসে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই সিল মেরেছেন। ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে একজন নারী একাই ৩৬টি ভোট দিয়েছেন ইত্যাদি। এম কে আনোয়ার বলেন, ফল বদলানোর কোনো অবকাশ নেই। তবে সরকার তার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফল যদি বদলানো হয়, তাহলে অবর্ণনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। এর দায় সরকার ও ইসিকে নিতে হবে।
