প্র জ ন্ম আ ই ক ন

সাফল্যের পথ ধরে

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২০:০৫
ডাকনাম :শাহীন জন্মতারিখ ও স্থান :৩ জুলাই, সিরাজগঞ্জ মায়ের নাম :শাহানারা বেগম বাবার নাম :মো. এন্তাজ আলী প্রথম স্কুল :আমলা প্রাইমারি স্কুল প্রিয় মানুষ :বাবা ও মা প্রিয় উক্তি :If you intend to live on this planet, you should know how to work. প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :টিভি দেখে, স্ত্রী-সন্তানদের সাথে সময় দিয়ে। সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম এবং সর্বোচ্চ চেষ্টায় প্রতিভাকে কাজে লাগানো। দেশসেরা মেধাবীদের পীঠস্থান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে তিনি বিভিন্ন কন্সট্রাকশন কোম্পানিতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। মেধার জোরেই তার ডাক পড়েছিল বহুজাতিক ফার্মগুলোতেও। সদালাপী এনামুল ইসলাম যেখানে কাজ করতে গেছেন, সেখানেই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এই শতকের শুরুর দিকে বাংলাদেশে আসে সিমেক্স সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এই সিমেন্ট উত্পাদন প্রতিষ্ঠানে শুরুর সময় থেকেই প্ল্যান্টের সাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ছিলেন তিনি। এনামুল ইসলাম প্রকৌশলী হিসেবে যেমন দক্ষ, নিজের কাজটাকে সবার সামনে সুন্দর করে উপস্থাপনও করাতেও তার দারুণ দক্ষতা। আর এই সময়টাতে এই জিনিসটা বড় বেশি প্রয়োজন কর্পোরেট দুনিয়াতে। এমনি বাস্তবতায় সিমেক্স সিমেন্টের কর্পোরেট সেলস ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে আসেন তিনি। ২০০১ সালে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তিনি নিজেকে সেভাবে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ছেলেবেলা থেকেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর যে দৃঢ় বাসনা, সেটা বাস্তব হয়ে আসে তার সামনে। আর এই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে পূরণ করেন তিনি। এনামুল ইসলামকে যখন এই বিপণন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন তিনি নিজের আগ্রহেই এমবিএ করেন। শুধু যে ব্যবসায় প্রশাসনের জন্যই এমবিএ করা দরকার তেমনটা নয়। নিজের কাজটা গুছিয়ে করা যেমন দরকার, তেমনি প্রতিষ্ঠানের কাজটাও তদারকিতে সাহায্য করে প্রাতিষ্ঠানিক এই শিক্ষা। প্রজন্মের এই আইকনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, নিজের দায়িত্বটা গুছিয়ে পালন করতে কীভাবে এগোন তিনি? এনামুল ইসলাম বলেন, ‘সবসময়ই একটা লক্ষ্য ঠিক করে এগোনো উচিত। আর সেই অনুযায়ী দরকার একটা পরিকল্পনা। সময়মতো তো বটেই, পারিপার্শ্বিক সবকিছু থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টা বুঝতে হবে। তা ছাড়া যারা চ্যালেঞ্জিং পেশায় কাজ করেন, তাদের সবসময়ই লক্ষ রাখতে হয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে।’ আর প্রযুক্তি বরাবরই অগ্রসরমান। নিজেকে এই প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এনামুল হক যেহেতু বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পের অগ্রযাত্রা খুব কাছে থেকে দেখেছেন, তাই তার কথায় এ বিষয়ও উঠে এসেছিল। তিনি জানান, বছর দশেক আগেও বাইরে থেকে সিমেন্ট আমদানি হতো শতকরা প্রায় আশি ভাগ। আর এখন আমাদের দেশেই দেশীয় চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রফতানি করার মতো সিমেন্ট উত্পাদন হচ্ছে। আরও আশার কথা শোনালেন তিনি, আমাদের সিমেন্ট ভারতে রপ্তানি হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে হয়তো অন্যান্য দেশেও সেই সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হবে। প্রসঙ্গতই উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সবগুলো সিমেন্ট উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমাদের জনবল দিয়েই সেগুলো পরিচালিত হচ্ছে। এনামুল ইসলাম বলেন, ‘সিমেন্ট শিল্প দেশের সম্ভাবনাময় একটি শিল্প। এ শিল্পের উন্নয়নে সরকারের বেশ কিছু নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি। বর্তমানে দেশে ব্যাপকভাবে আবাসনের চাহিদা বেড়েছে, সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নেও ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এসব আবাসন প্রকল্প এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সিমেন্টের চাহিদা আরও বাড়বে। আমাদের পণ্য পরিবহনসহ অনেক ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। আগে এ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। সিমেন্ট শিল্পের সুষ্ঠু বিকাশের জন্যে লজিস্টিক সাপোর্ট এবং পরিবহন ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে হবে।’ প্রজন্মের এই আইকনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম নতুন প্রজন্মের কাজ সম্পর্কে। তিনি খুবই আশাবাদী তরুণদের নিয়ে। কারণ তিনি মনে করেন, তরুণরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে অনেক পছন্দ করে। কাজের প্রতি তাদের আগ্রহও অনেক। সেই সাথে তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতাও ব্যাপক। এনামুল হক মনে করেন, প্রযুক্তির পাশাপাশি আমাদের এই সময়ে ব্যবহারিক জ্ঞানটা অনেক বেশি দরকার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সবার যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর উপর জোর দেন তিনি। এনামুল ইসলাম মনে করেন, বাংলাদশে এখন বিভিন্ন পেশায় কাজের সুযোগ রয়েছে। তরুণ প্রজন্ম চাইলেই যেকোনো পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে পারছে। এটা তাদের সামনে সম্ভাবনার বিশাল দুয়ার খুলে দিয়েছে। দরকার শুধু পছন্দ মাফিক বিষয়টাকে বেছে নেওয়ার। আর সবসময় যে সবকিছু পড়াশোনা কেন্দ্রিক হচ্ছে তেমনটাও নয়। তিনি নিজেও যেমন প্রকৌশল শাস্ত্রে পড়াশোনা করেও কাজ করছেন কমার্শিয়াল ডিরেক্টর হিসেবে। আসলে বাস্তবতাও তাই, যেকোনো পেশার সাথেই এখন কর্পোরেট সম্পৃক্ততাটা অনেক বেশি। সুতরাং এই জগতে কাজের ক্ষেত্রও অনেক। নতুনরা যারা চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসে, যাদের যোগাযোগ দক্ষতা ভালো, তাদের জন্য নিঃসন্দেহে সেরা কাজের ক্ষেত্র কর্পোরেট দুনিয়া। বহুমুখী প্রতিভার এই মানুষটার ছেলেবেলা কেটেছে বাবার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন শহরে। শৈশবের স্মৃতির একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তার বাবার আদর-শাসন। পাশের বন্ধুরা যখন উচ্ছল আনন্দে দিন কাটাচ্ছিল, বাবা তার ছেলেদের অতটা উচ্ছলতায় গা ভাসাতে দেননি। মফস্বল শহরের সেই দিনগুলো আজও অলস দুপুরে বড় বেশি মনে পড়ে তার। স্কুলের পড়া নিয়ে রোজ বাবার সাথে বসা, বসে বসে বাড়ির কাজ করা। স্কুলের চেয়ে নিজের পড়াশোনাটা এগিয়ে রাখতে বলতেন বাবা। তখন অনেক সময় খুব বিষণ্ন লাগত এনামুলের। মনে হতো ইস্ একটু যদি মুক্ত হতাম এই গত্বাঁধা দুনিয়া থেকে। আজ তো সেই বিষণ্নতাকেই বড় বেশি মিস করেন তিনি। চান সেই শৈশবে ফিরে যেতে, কুষ্টিয়ার সেই মফস্বলে বাবার হাত ধরে ঘুরে বেড়াতে। আর বাবার পাশাপাশি মায়ের অবদানটাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বাবা-মায়ের কেউ আজ তাদের মাঝে নেই। থাকলে আজ সন্তানের সাফল্যে কতই না উচ্ছ্বসিত হতেন তারা। সেই সময়ের এনামুল ইসলাম অনেক বেশি সচেতন থাকতেন নিজের পড়াশোনা নিয়ে, আর এখন তার ব্যস্ততা শুধুই নিজের কর্পোরেট ক্যারিয়ার নিয়ে। এই ব্যস্ততার মাঝে যিনি তাকে সবচেয়ে বেশি সান্নিধ্য দেন, তিনি তার স্ত্রী ফারহানা রেহান। সানিডেল স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি। দুই সন্তান জারিফ এনাম ও রাফিদ এনামকে ঘিরেই এখন তাদের সব স্বপ্ন। এনামুল ইসলাম যে স্বপ্নের পথ ধরে হেঁটেছেন সে যাত্রায় এগিয়ে যাবেন অনেকদূর, সেই শুভকামনা তার জন্য।