উম্বলডনের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে খোদ সেরেনা উইলিয়ামসকে হারানোর পর জার্মানির সাবিনে লিসিকি কোয়ার্টার ফাইনালে এস্টোনিয়ার কাইয়া কানেপিকে সরাসরি সেটে হারিয়ে প্রমাণ করেছেন, তিনি এবার উইম্বলডনে কেন ফেবারিট ছিলেন! শুধু লন্ডনের বুকি নয়, টেনিস কিংবদন্তি মার্টিনা নাভ্রাতিলোভাও এবার লিসিকিকেই উইম্বলডন মুকুটের যোগ্য ধারক ও বাহক হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
১৯৯৬ সালে স্টেফি গ্রাফ শেষবার জার্মানির হয়ে একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাব জেতেন। তারপর থেকে আর কোনো জার্মান মহিলা এ গৌরবের অধিকারী হতে পারেননি। অন্যদিকে, লিসিকি উইম্বলডনে নতুন নন। দু’বছর আগে ওখানেই সেমিফাইনালে গিয়ে হেরেছিলেন মারিয়া শারাপোভার কাছে। সেবার তিনি উইম্বলডনে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন ‘ওয়াইল্ডকার্ড’ হিসেবে। তার তিন মাস আগেও লিসিকি বিশ্ব র্যাংকিংয়ে নেমে দাঁড়িয়েছিলেন ২১৮-এ।
সাবিনে লিসিকি ২০১২ সালে কোয়ালিফাইং পর্যন্তই পৌঁছতে পারেননি। তা সত্ত্বেও উইম্বলডন লিসিকির প্রিয় সারফেস, ঘাসের ওপর খেলতেই ভালোবাসেন তিনি। উইম্বলডনে সব মিলিয়ে লিসিকির হারজিতের রেকর্ড—১৮টি জয়, চারটি মাত্র হার। লিসিকি এর পর খেলেন ২০১২ সালের ফাইনালিস্ট এবং চতুর্থ বাছাই পর্বে, পোল্যান্ডের আগনিয়েশকা রাডভান্সকারের বিপক্ষে। তবে জার্মান তরুণী জানিয়েছেন, এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার আগে কোনো চাপ অনুভব করেননি তিনি।
আর এবারকার উইম্বলডন হলো অঘটনের উইম্বলডন। মহিলাদের কোয়ার্টার ফাইনালে এবার যে আটজন খেলেছেন, তারা এসেছেন আটটি দেশ থেকে এবং তারা সবাই মিলে মাত্র দু’টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাবের অধিকারী। জার্মানির সাবিনে লিসিকি, পোল্যান্ডের আগনিয়েশকা রাডভান্সকা, ইটালির মারিয়ন বার্তোলি অথবা বেলজিয়ামের কির্স্টেন ফ্লিপকেন্স।
২৩ বছর বয়সের লিসিকি এখন অসাধারণ টেনিস খেলছেন। সেরেনা উইলিয়ামসের বিপক্ষে দশটি ‘এস’ সার্ভ করার পর কানেপির বিপক্ষে ছয়টি পয়েন্ট ‘ড্রপশটে’ নিয়েছেন লিসিকি, অর্থাত্ তিনি তার গেমে বৈচিত্র্য আনতে জানেন। তবুও যারা স্টেফি গ্রাফের সূচনার কিংবা পরের দিকে খেলা দেখেছেন, তাদের বলতে হবে, লিসিকির খেলায় দক্ষতা ও অধ্যবসায়ের যথেষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।
অঘটনের উইম্বলডনে মেয়েদের এককের কোয়ার্টার ফাইনালে ছিল অন্য রকম এক ছবি। শেষ আটে উঠেছিলেন ৮ দেশের ৮ জন। যাদের মধ্যে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র দুজনের! ২০১১ ফ্রেঞ্চ ওপেনজয়ী লি না ও একই বছরের উইম্বলডনজয়ী কেভিতোভা। কিন্তু দুজনই বিদায় নিয়েছেন শেষ আট থেকে। চার সেমিফাইনালিস্টের গ্র্যান্ড স্লাম জয় দূরে থাক, ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতাই আছে দুজনের। এই উইম্বলডনেই ২০০৭ সালে ফাইনালে উঠেছিলেন ফ্রান্সের বার্তোলি, গত বছর পোল্যান্ডের রাদভানস্কা। ২৭ বছর বয়সী সেই ফ্লিপকেনসের চোখেই এখন প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের স্বপ্ন। ২০০৭ সালে জাস্টিন হেনিনের পর তিনিই প্রথম বেলজিয়ান মেয়ে, যিনি উঠলেন গ্র্যান্ড স্লামের সেমিফাইনালে। এস্তোনিয়ার কেইয়া কানেপিকে হারিয়ে লিসিকি দ্বিতীয়বারের মতো উইম্বলডনের সেমিফাইনালে খেলেছেন।
