অ্যানিমেশন গ্রাফিক্সে এ প্রজন্ম

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২০:০৭
শাহ আজিজুর রহমান সিনিয়র আর্টিস্ট (অ্যানিমেশন) প্লে-ডোম লিমিটেড শাহ আজিজুর রহমান ডাকনাম :তপন জন্মতারিখ ও স্থান :১৬ জুন, রাজশাহী মায়ের নাম :ফিরোজা রহমান বাবার নাম :হাবিবুর রহমান প্রথম স্কুল :রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল, ঢাকা প্রিয় মানুষ :শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :আড্ডা দিয়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :কাজ করে যেতে হবে। ইত্তেফাকের টারজানের দারুণ ভক্ত ছিলেন তখন। কমিকসের দারুণ ভক্ত তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়েন ছেলেটা। একটা কম্পিউটার কেনা সেই সময়ে খুবই দুঃসাধ্য বিষয়। অনেক কষ্টে তপন সেটা জোগাড় করে ফেললেন। পড়াশোনার বাইরে নিজে থেকেই অনেক কিছু শিখতেন। চেষ্টা করতেন সর্বশেষ প্রযুক্তিটা শিখে নেবেন তিনি। এই অদম্য আগ্রহেই তিনি এই পর্যায়ে এসেছেন। এখন প্লে-ডোম নামের এক প্রতিষ্ঠানে গেমের ডিজাইনে সময় দিচ্ছেন। পড়াশোনা শেষ করে কিছুদিন নেমকো থেকে অ্যানিমেশনের উপর প্রশিক্ষণও নেন। সেই সময় আসলে অতটা সুযোগ ছিল না যে এই বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়ার। তবুও লেগে থাকেন তিনি। একটা অ্যাডফার্মে যোগ দেন। সেখানে কিছুদিন কাজের পর তপন আসেন বেক্সিমকো গ্রুপের ডিপ রেডে। এখানেও স্টুডিওর সাথে অন্যরকম সখ্যতা হয়। নিজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে যোগ দেন এখনকার প্রতিষ্ঠানে। যাদের হাত ধরে মূলত এ দেশে অ্যানিমেশনের হাতেখড়ি, তাদের একজন হয়ে দারুণ সব কাজ উপহার দিয়ে যাচ্ছেন তিনি তরুণদের। আজিজুর রহমান তপন বলেন, ‘অ্যানিমেশন হচ্ছে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে স্থিরচিত্র বা স্থির ছবির প্রদর্শন, যা প্রদর্শিত হলে মনে হবে চলমান ছবি বা চলচ্চিত্র। প্রথমদিকে অ্যানিমেশনের ধারণা আসে আর্কিটেকচারাল ড্রয়িংকে বিভিন্ন পার্শ্ব থেকে দেখানোর জন্য। পরে অ্যানিমেশনের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রেই শুরু হয়। প্রথাগত অ্যানিমেশন বিংশ শতাব্দীতে ফিল্মের জগতে প্রবেশ করে। প্রথাগত অ্যানিমেশনে একটি স্থিরচিত্রকে চলমান করার জন্য কাগজের ওপর বিভিন্ন পজিশনে অনেক ড্রইং করা হয়। ড্রইংগুলোতে ছবির পরিবর্তনটা এতই সামান্য যে, সাধারণভাবে ক্রমানুসারে ছবিগুলো পর পর দেখলে একটি ছবির পরবর্তী ছবিটি খুব পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হবে না। বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে যখন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি ছবিকে ক্রমানুসারে ধারণ করা হয় এবং ক্যামেরা থেকে ধারণকৃত ফাইলটি চালানো হয়, তখন তাকে চলমান ছবি বলে মনে হয়।’ প্রজন্মের মেধাবী এই অ্যানিমেটর বলেন, ‘অ্যানিমেটেড ছবি, গেম কিংবা কার্টুনের জনপ্রিয়তা আগে শুধু ছোটদের কাছে থাকলেও এখন বিশ্বব্যাপী বড়দের কাছেও অ্যানিমেটেড ছবি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। হলিউডের বেশ কিছু সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র এবং ভারতীয় কিছু কিছু হিন্দি ছবিও অ্যানিমেশন ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এসব ছবি বিশ্ববাজারে অনেক মূল্যও পেয়েছে। এ ছবিগুলোর দর্শকদের সংখ্যা বেশি হচ্ছে তরুণ। তরুণদের কাছে অ্যানিমেটেড ছবির জনপ্রিয়তা বর্তমানে অনেক বেশি। কারণ তরুণরা সবসময়ই উচ্ছলিত প্রাণে বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগানো কাল্পনিক জগতকে ভালোবাসে। আর তাই তরুণরাই এই দিকটাতে অনেক আগ্রহী, বেশ ভালোও করছে তারা।’ আজিজুর রহমান তপনের বেড়ে ওঠা রাজশাহীতে। সেখানেই স্কুল কলেজ, এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলায় স্নাতক করেন তিনি। বাবা অনেকদিন হলো তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। গৃহিণী মা তাদের আগলে বড় করেছেন। স্ত্রী মুক্তি নিজেও চারুকলায় পড়ছে। শিল্পের সাথে বেড়ে ওঠা এই মানুষটা তার কর্মের আলোয় আলোকিত করে যাবেন আমাদের, সেটাই চাওয়া। ইবরাহীম পারভেজ গ্রাফিক্স ডিজাইনার (অ্যানিমেশন) বাংলাভিশন ইবরাহীম পারভেজ ডাকনাম :পারভেজ জন্মতারিখ ও স্থান :১২ ডিসেম্বর, কিশোরগঞ্জ মায়ের নাম :নাহার বেগম বাবার নাম :মো. সিরাজ উদ্দিন প্রথম স্কুল :মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :আমার মা প্রিয় উক্তি :সদা সত্য কথা বলিবে প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :গান শুনে, আড্ডা দিয়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :বিষয়টা অনিশ্চিত, চেষ্টা করে যেতে হবে। ‘আইটির বিভিন্ন সেক্টরের মধ্যে অন্যতম একটি জনপ্রিয় সেক্টর অ্যানিমেশন। এর জন্য প্রয়োজন নেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিশাল কোনো ডিগ্রি অথবা একঝাঁক সার্টিফিকেটের। প্রয়োজন সৃজনশীলতা-বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়, সাথে ধৈর্য-সাধনা-চেষ্টা এবং চিন্তাশক্তি। বর্তমান সময়ে উচ্চ আয় আর সম্মান সেই সাথে সৃজনশীলতার সমন্বয়ের কারণে দিন দিন বাড়ছে অ্যানিমেটরের সংখ্যা। অ্যানিমেশন বিষয়টি যেমন সহজ, তেমনি আনন্দদায়কও বটে’, বলছিলেন বাংলাভিশনের অ্যানিমেশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার ইবরাহীম পারভেজ। অ্যানিমেশনের কাজের ক্ষেত্র জানতে চাইলে ইবরাহীম পারভেজ বলেন, ‘টারজান, আলাদিন, টম অ্যান্ড জেরি, পাপাই, থান্ডার ক্যাটস, মিনা কার্টুন সবই অ্যানিমেশনের ফসল। অ্যানিমেশনের মাধ্যমেই বিভিন্ন দেশের দাতা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের মোটিভটি সারা বিশ্বে সামনে তুলে ধরছেন। বিশ্ববিখ্যাত হলিউড সিনেমা জুরাসিক পার্ক, টারমিনেটর সিরিজ অ্যানিমেশনের কারণেই হয়েছে রোমাঞ্চকর। গেমসের বিভিন্ন চরিত্র আজ দেশে দেশে এত জনপ্রিয় শুধু অ্যানিমেশনের কারণেই। বিজ্ঞাপন, কার্টুন, লোগো কিংবা টয় স্টোরি থেকে শুরু করে হালের অস্কার বিজয়ী শ্রেষ্ঠ ছবিগুলো অ্যানিমেশনকে এনে দিয়েছে বাড়তি জনপ্রিয়তা।’ ইবরাহীম পারভেজ বলেন, ‘অ্যানিমেশন ডিজাইন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাজেই আমাদের দেশে ডিজাইনারদের কাজের সুযোগ রয়েছে। অ্যানিমেটর হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে হলে একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই ডিজাইন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাজ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। তাই প্রযুক্তির উত্কর্ষের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। বিজ্ঞাপন শিল্প থেকে শুরু করে প্রিন্টিং শিল্পের সব ধরনের কাজেই অ্যানিমেশনের যথেষ্ট কাজ হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অ্যানিমেশন আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের দেশেই শুধু নয়, এখন সারাবিশ্বেই ক্রিয়েটিভ বা গ্রাফিক্স সেক্টরে জব মার্কেট অনেক ভালো। এ পেশায় সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি। জব মার্কেট উন্নত হওয়ার পাশাপাশি আমাদের এখানে শিক্ষার মান অবশ্যই বেড়েছে। বিভিন্ন জায়গাতে এখন এ ধরনের অনেক কোর্স হচ্ছে। এই কোর্সগুলোও কিন্তু সফল হতে সাহায্য করবে আপনাকে।’ ইবরাহীম নতুনদেরকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘একটি ভালো ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই দক্ষতার উন্নয়ন প্রয়োজন। আপনি শুধু একটি বা দুইটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে সাফল্য লাভ করবেন, এটা মনে করা ঠিক না। সাফল্য লাভ করার জন্য যত বেশি দক্ষতা অর্জন করা যায় ততই একটি সুন্দর ও সফল ক্যারিয়ার এর দিকে আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন। তেমনি অ্যানিমেশনে ভালো করতে হলেও পড়াশোনার পাশাপাশি নজর রাখতে হবে ব্যবহারিক কাজের দিকেও।’ ইবরাহীমের ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকাতেই, এখানেই স্কুল কলেজের পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে বেশ কিছু কোর্স করে বন্ধুরা মিলেই শুরু করেন গ্রাফিক্সের কাজ। এরপর অ্যানিমেশনের কাজে হাত পাকান। চ্যানেল ওয়ান, এরপর বাংলাভিশনের মাধ্যমে এই জগতের বাসিন্দা হয়ে আছেন তিনি। বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মাঝে তিনি দ্বিতীয়। ইবরাহীম স্বপ্ন দেখেন আমাদের অ্যানিমেশন একদিন বিশ্বময় খ্যাতি কুড়াবে, তিনি হবেন সেই স্বপ্নের সারথি। মাহমুদ হাসান কায়েশ চিফ ভিডিও এডিটর এটিএন নিউজ লি. মাহমুদ হাসান কায়েশ ডাকনাম :কায়েশ জন্মতারিখ ও স্থান :১৯৭৮, খোলাহাটী, গাইবান্ধা মায়ের নাম :মোছা. ফিরোজা বেগম বাবার নাম :মো. কামরুল হাসান প্রথম স্কুল :খোলাহাটী প্রাইমারি স্কুল, খোলাহাটী, গাইবান্ধা। প্রিয় মানুষ :মা-বাবা। প্রিয় পোশাক :শার্ট ও প্যান্ট। অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে, মঞ্চ নাটক দেখে, সিনেমা দেখে, শিক্ষকতা ও লেখালেখি করে। সাফল্যের সংজ্ঞা :যে কাজেই হোক না কেন তাতে একাগ্রচিত্তে লেগে থাকা। তিনি মূলত একজন মঞ্চকর্মী ছিলেন। যখন হাইস্কুলে পড়েন তখন থেকেই থিয়েটারের সাথে জড়িয়ে পড়েন। তবে ছোটবেলা থেকেই তার খুব স্বপ্ন ছিল অভিনয় করবেন। ১৯৯৮ সালের দিকে ঢাকায় আসেন মঞ্চ নাটকে কাজ করবেন বলে। ঢাকা শিল্পকলা একাডেমীতে অভিনয় বিষয়ক কোর্সও করেন। থিয়েটার নিয়ে দেশের বাইরে পড়ার ইচ্ছে ছিল কিন্তু হয়ে উঠেনি। এরপর স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া ডিপার্টমেন্ট থেকে ফিল্মে মাস্টার্স করেন। মাস্টার্সে পড়ার সময়ই তিনি গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে ভিডিও ক্যামেরায় আর ইটিভিতে ভিডিও এডিটিংয়ের কোর্স করেন। মূলত ২০০৪ সাল থেকে পুরোপুরি ভিজ্যুয়াল নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। এখন সেই মাহমুদ হাসান কায়েশ কাজ করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদভিত্তিক চ্যানেলে। প্রথমে বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউজে বসে বসেও অনেকের কাজ দেখতেন। এরপর চ্যানেল ওয়ান আসেন। সেখানেই মূলত ২০০৫ সালে ভিডিও এডিটর হিসেবে কাজ শুরু করেন। মাঝে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর যোগ দেন এটিএন নিউজে। কায়েশ মনে করেন সম্পাদনা একরকম উপস্থাপনা। সেই উপস্থাপনায় গল্প থাকতেও পারে আবার নাও পারে। তবে উপস্থাপনাটা হতে হবে যুক্তিসঙ্গত ও অর্থবোধক। তাই একজন সম্পাদকের নানা বিষয়ে জ্ঞান রাখা দরকার। ভিডিও সম্পাদনার কাজটি শেষ হলে তাকে সাউন্ড সম্পাদনার কাজটিও করতে হয়। কাজেই সাউন্ড সম্পর্কেও তাকে জানতে ও বুঝতে হয়। এরপর মিউজিক ও গ্রাফিক্স কাজ শেষ করে ফাইনাল আউটপুটের মধ্য দিয়ে তা টেলিভিশনে বা বাজারে ডিভিডি আকারে ছাড়ার জন্য প্রস্তুত হয়। কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই পেশায়? উত্তরে কায়েশ বলেন, ‘অনেক ভালো লাগে। কেননা প্রতিনিয়ত একটা সৃষ্টিশীল কাজে জড়িত আছি বলে মনে হয়। আর আমার কাজের কারণেই একজন দর্শকের মনে কখনও দুঃখ, কখনও ভয়, কখনও হাসি, কখনোবা আনন্দের অনুভূতি জন্ম হয়; ঠিক যেমনটা হয় অন্য শিল্পের ক্ষেত্রে।’ প্রজন্মের এই ভিডিও এডিটরের ধারণা, পেশা হিসেবে এখনও এ দেশে ততটা সম্মানজনক হয়ে ওঠেনি ভিডিও এডিটিং। তবে সময় লাগলেও এ পেশা একদিন নিজের যথাযথ সম্মান আদায় করে নিবে। কেননা কেউ কখনও ভাবতেই পারে না বা মেনে নেয় না যে একটা নাটক, সিনেমা বা কোনো টিভি রিপোর্টের পিছনে পরিচালক বা রিপোর্টারের যেমন অবদান, তেমনি একজন সম্পাদকেরও তাতে সমান অবদান থাকে। অথচ একজন সম্পাদকই পারে পুরো কাজটাকে সর্বোচ্চ সফলতায় নিতে। নতুনদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, কেউই এই বিষয়ে পড়াশোনা করতে চায় না। আবার অল্পতেই অনেক কিছু পেতে চায়। এটা কাটিয়ে ওঠা দরকার। কাজটাকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। ধৈর্য্যশীল হতে হবে। কেননা ভিডিও এডিটিংও একটা সৃষ্টিশীল কাজ। নিজেদের পড়াশোনা ও দেখার চোখটাকে ভালো করতে হবে। কেননা ভালো সৃষ্টির শেষ বলে কিছু নেই। আর একটা বিষয় নিজেকে সবসময় টেকনোলজির সাথে আপডেট রাখতে হবে। অন্যথায় নিজেকে সনাতন হয়েই থাকতে হবে। তার পুরো শৈশব ও কৈশোর গ্রামেই কেটেছে। সবসময় খেলাধুলা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তবে এর জন্য অনেক বকুনিও খেয়েছেন। পরিবারে কায়েশ বড় ছেলে, তার এক ছোট ভাই ও দুই বোন। মা গৃহিণী আর বাবা লেখালেখি ও সমাজসেবায় ব্যস্ত। একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়া এবং পাশাপাশি চলচ্চিত্র বিষয়ে শিক্ষকতা করার স্বপ্ন তার। সময়টাকেই কাজে লাগিয়ে নিজের মেধার সঠিক প্রয়োগেই সাফল্য নিশ্চিত করতে চান প্রজন্মের এই মেধাবী ভিডিও এডিটর। মুহাম্মদ মুনির হোসেন সিনিয়র মোশন গ্রাফিক্স আর্টিস্ট ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন মুহাম্মদ মুনির হোসেন ডাকনাম :মুনির জন্মতারিখ ও স্থান :১৫ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা মায়ের নাম :শাহিদা বেগম বাবার নাম :মুহাম্মদ আবুল হোসেন প্রথম স্কুল :নারিন্দা গভ. হাইস্কুল প্রিয় মানুষ :আমার সন্তান প্রিয় পোশাক :শার্ট-প্যান্ট অবসর কাটে যেভাবে :মুভি দেখে, আড্ডা দিয়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম। গতানুগতিক কিছুতে পড়ার ইচ্ছে ছিল না কখনোই। চাইতেন অন্যরকম কিছু করবেন। আর সেই থেকেই মাল্টিমিডিয়ার দিকে ঝোঁক। নানা রকম গ্রাফিক্স আর অ্যানিমেশনের কাজ তাকে অন্য এক মোহে আকৃষ্ট করত। অ্যানিমেশন মুভিগুলো যখন দেখতেন, তখন সবসময়ই মনে হতো—ইস্ এমন অ্যানিমেশন যদি বানাতে পারতাম! সে যাত্রায় তিনি পথ হেঁটে অনেকদূর এগিয়েছেন। বলছি মুহাম্মদ মুনির হোসেনের কথা, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিনিয়র মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার তিনি। মুহাম্মদ মুনির হোসেনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই কাজে? তার সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘যদি ভালো না লাগত তবে তো থাকতাম না।’ আসলেই বাস্তবের সবকিছুর মতো কাজকেও ভালোবেসে ফেলেছেন তিনি। আর অ্যানেমিশনের প্রতিও তার আগ্রহ প্রবল। আর কাজের প্রতি এই যে ভালোবাসা, এ জন্যই নিজের কাজটিকে খুব উপভোগ করেন তিনি। তা ছাড়া সহকর্মী-বন্ধুদের কথাও স্মরণ করলেন মুনির। তাদের ছাড়া কোনো কাজ সফলভাবে শেষ করা সম্ভব না। এই সময়ে পেশা হিসেবে অ্যানিমেশন কেমন? জানতে চাইলে মুহাম্মদ মুনির হোসেন বলেন, ‘পেশা হিসেবে দিনকে দিন বেশ সমৃদ্ধ হচ্ছে এই ক্ষেত্রেটি। টেলিভিশন হোক, আর হাউজেই হোক, কাজের সুযোগ বাড়ছে। শুধু খেয়াল রাখা দরকার, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নিজের জ্ঞান বাড়ানোর জন্য চর্চা করতে হবে। আর এই চর্চা এখন অনলাইনে বসে খুব সহজেই করা যায়। নিজের স্বশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও আগ্রহ দুইই এখানে দরকার।’ তা ছাড়া দেশের বাইরেও কাজের সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টেলিভিশন চ্যানেল, অ্যাড হাউজ অথবা গেম তৈরিতেও অ্যানিমেশনের চাহিদা বাড়ছে। পেশা হিসেবে অ্যানিমেটরের চাহিদা বিশ্বব্যাপী। যদিও অনেকটা দেরিতেই দেশে এ পেশার প্রসার ঘটেছে তবুও দেশেই প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বিভিন্ন বিজ্ঞাপনসহ আন্তর্জাতিক মানের অ্যানিমেটিভ ছবি। আর সেজন্য গড়ে উঠেছে নানা অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানও। ম্যাক্সের কাজের মধ্যে থ্রিডি মডেলিংয়ের কাজ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ কোনো বস্তুর মডেল বা ঘরবাড়ির মডেল তৈরির কাজ রয়েছে যথেষ্ট।’ টিভিতে প্রচারিত বিজ্ঞাপন থেকেও এ কাজ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় বলে জানালেন মুনির। মুনিরের টেলিভিশন জগতে কাজের শুরু চ্যানেল ওয়ানের মাধ্যমে। ২০০৬ সালে তিনি যোগ দেন চ্যানেল ওয়ানে। এরপর ২০১০ সালে আরটিভিতে যোগ দেন। কাজ করেছেন বাংলাভিশনের সাথেও। এরপর ২০১১ সালে অ্যানিমেশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু করেন ইন্ডিপেনডেন্ট টিভিতে। শুরুর থেকেই সংবাদ বা নিয়মিত অনুষ্ঠানগুলোর গ্রাফিক্স আপডেটের কাজটি পালন করেন তিনি। তার হাতে করা অ্যানিমেশন প্রতিদিন মুগ্ধ করে চলেছে লাখো দর্শককে। মুনির হোসেনের ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকার যাত্রাবাড়িতে। বাবা ছিলেন চাকরিজীবী আর মা গৃহিণী। তার সব কাজেই অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন স্ত্রী শাকিলা জামান সাথী। একমাত্র সন্তান আননাফ তাহমিদকে নিয়েই কেটে যায় তার সুখের সময়। তিনি স্বপ্ন দেখেন আমাদের দেশেও গ্রাফিক্স অ্যানিমেশনে আন্তর্জাতিক মানের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। সে যাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে চান তিনি।