রোজা : চাকরিজীবী নারীর পরিকল্পনা

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২০:১০
ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে পবিত্র রোযার প্রস্তুতি। আসন্ন রোজাকে ঘিরে চলছে নানা পরিকল্পনা। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে দুই-একদিনের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে পবিত্র রোজা। রোজার সময় বাচ্চাদের স্কুল কিছুদিন ছুটি থাকলেও আসন্ন ঈদের কথা ভেবে পুরো রোজার মাসই তাদের জন্য উত্সবমুখর। তবে একজন নারীকে যখন মা হিসেবে সন্তানের ঈদের নানা চাহিদা পূরণ, পরিবারের সকলের জন্য রোজার সেহ্রী, ইফতারির ব্যবস্থা করে দেয়ার পাশাপাশি চাকরি চালিয়ে যেতে হয় তখন তা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। জিনিসপত্রের উর্ধ্বমুখী দামের কারণে রোজার মাসের শুরু থেকেই দেখা যায় পারিবারিক বাজেট সংকট। রোজার সময় অফিস চলে বিকাল চারটা পর্যন্ত। এরপর রাস্তার যানজট পেরিয়ে বাড়ি এসে ইফতারি প্রস্তুত করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তখন বাইরে থেকে কিনে বা চিড়া-মুড়ি দিয়েই সম্পন্ন হয় ইফতারির পর্ব। এসব বাড়তি খরচ সামলাতে রোজার মাসের আগে থেকেই তাই সম্পূর্ণ মাসের বাজেট করে নেয়া ভাল। রোজায় পরিকল্পনা জানতে কথা হচ্ছিল হেনার সাথে। হেনা ব্যাংকে ক্যাশ কর্মচারি। তার স্বামী এনজিওর কর্মকর্তা। দুই সন্তান আর স্বামী-স্ত্রী মিলে তাদের ছোট্ট সংসার। হেনা বলেন, রোজার সময় তাদের সন্তানেরা সারাদিন নানীর বাসায়ই থাকে। তার বড় মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে ও ছোট ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। এখন থেকেই আসছে ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে তার সন্তানদের। তার মেয়ে জামার কাপড় কিনেছে দর্জির কাছে বানাতে দেয়ার জন্য। বেশি দেরী হলে দর্জি ঈদের আগে আর নেবে না। তাই সন্তানদের জন্য কেনাকাটা শুরু করে দিতে হয়েছে। বড় মেয়ে বলে, তার সব বান্ধবী জামা বানিয়ে ফেলছে। সে কেন বানাবে না? তার পাশাপাশি ছেলেও আবদার ধরেছে যে তারটাও কিনতে হবে। এদিকে হেনা বলেন, মাত্র বেতন পেলাম, কিন্তু তা দিয়ে মাসের বাজার, রোজার জন্য সেহ্রী ও ইফতারির, ব্যবস্থাসহ ঈদের জন্য কেনাকাটা, ছুটা বুয়ার খরচ সবই করতে হবে। এই বাড়তি খরচের টাকা আমি কই পাব? ঈদে ব্যাংকে প্রচুর ভিড় হয়। রোজার শেষ পনেরো দিন বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত আটটাও বেজে যায়। অনেক সময় ইফতার করতে হয় অফিসেই। সে সময় এসে আমি না পারি মেয়েদের সময় দিতে, না পারি ঈদের প্রস্তুতি নিতে। এজন্য অনেক আগে থেকেই টাকা বাঁচিয়ে সঞ্চয় করে নানা জিনিস কেনাকাটা করে রাখি যেন রোজায় দ্রব্যের ঊর্ধ্বমূল্যর সমস্যায় পড়তে না হয়। ছেলে-মেয়ের জন্য জামাকাপড়ও আগে থেকেই কিনে রাখি, কেননা ঈদের আগে সব জিনিষের দামই অনেক বেড়ে যায়। ঈদের সময় যে বোনাস পাই তা দিয়েই বাকি খরচ চালিয়ে নেওয়া যায়। আবার শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে সম্মিলিত পরিবারের ক্ষেত্রে দেখা যায় ভিন্ন ধরনের সমস্যা। বউয়ের চাকরি-বাকরি করাকে এখনও অনেক পরিবারে সাধুবাদ জানানো হয় না। বাড়িতে বউ থাকতে সেহ্রী-ইফতারী প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে, রাতের খাবার রান্না সব দায়িত্ব যদি শাশুড়িকে পালন করতে হয়, তবে সমাজে তা নিয়ে শুরু হয়ে যায় নানা কথা বার্তা। অফিস থেকে আসতে দেরি হলে পরিবারের সকলের কাছ থেকে সহমর্মিতা পাবার বদলে সহ্য করতে হয় নানা কটু মন্তব্য। ঈদকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তখন শুরু হয় আরও মনমালিন্য। ঈদের আগে চাকরির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপের কথা মাথায় রেখে সেসময় ঘর ও বাইরের কাজকে সমানভাবে ভাগ করে নিতে হবে ও যৌথ পরিবারের সকলে মিলেমিশে মাসের খরচাদি চালানোর ব্যাবস্থা করতে হবে। রোজার দিনগুলোতে অফিসের পাশাপাশি অন্য সকল খরচাদি চালিয়ে নেয়ার জন্য তাই আগে থেকেই পুরো মাসের পরিকল্পনা করতে হবে। এক্ষেত্রে জীবনসঙ্গীর সহযোগিতা একান্ত কাম্য। অণু পরিবারে দুজনে মিলে সব কাজ সমানভাবে ভাগ করে নিলে তা আর কোন সমস্যার সৃষ্টি করবে না। ঈদে ব্যাংক কর্মকর্তা, দোকানকর্মী, পত্রিকার রিপোর্টারসহ সব পেশার কর্মচারীদের চাপও অনেক বেড়ে যায়। সেসব কথা চিন্তা করে, বিভিন্ন দিক দিয়ে পারিবারিক নানা কর্মকান্ড আগে থেকে যতখানি সম্ভব এগিয়ে রাখতে হবে, যেন পরিবার-সংসার এবং চাকরিজীবন সমানভাবে চালিয়ে যাওয়া যায়।