পটুয়াখালীর গলাচিপা-রাঙ্গাবালি উপজেলার ৩০টি লঞ্চঘাটে টার্মিনাল, পন্টুন, ছাউনির মত যাত্রীসেবার তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা নেই। তীর থেকে হাঁটু পানি-কাদা ভেঙ্গে লঞ্চে উঠতে হয়। লঞ্চে উঠতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যাত্রীসেবার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও ঘাট টিকেটের নামে প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে টাকা নেয়া হচ্ছে। জানা যায়, লঞ্চ মালিক সমিতির নির্ধারিত ঘাটের সংখ্যা প্রায় ৬০টি। গলাচিপা-রাঙ্গাবালি উপজেলায় রয়েছে ৩০টি কলিং স্টেশন। স্টেশনগুলোর মধ্যে চরবিশ্বাস, চরলক্ষ্মী, উত্তর চরকাজল, পক্ষিয়া, ফেলাবুনিয়া, তক্তাবুনিয়া, টুঙ্গিবাড়িয়া, চরবেষ্টিন গাইয়াপাড়া, চিনাবুনিয়া, গ্রামর্দন, মৌডুবী, চালিতাবুনিয়া, তুলাতলী, মধুখালী, চরগঙ্গা, খালগোড়া, ফুলখালী, গজালিয়া, নয়াভাঙ্গুনী, জিনতলা ও গাববুনিয়া অন্যতম। ভাটার সময় লঞ্চ ঘাটে ভিড়তে না পারায় নদীর মাঝখানেই নোঙর করে। হাঁটু সমান, অনেক সময় কোমর সমান কাদাপানি ভেঙ্গে যাত্রীদের লঞ্চে ওঠানামা করতে হয়।
এতো দুর্ভোগের পরও যাত্রীদের কাছ থেকে ঘাট টিকিটের নামে পাঁচ টাকা হারে আদায় করা হয়। এমনকি এসব ঘাটে মালামাল ওঠানামার জন্য আদায় করা হয় টাকা। প্রতিবাদ করতে গেলে আদায়কারীদের হাতে নাজেহাল হতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। এছাড়া মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে ইচ্ছামাফিক টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। লঞ্চের যাত্রীরা জানান, নৌবন্দর কর্তৃপক্ষের পন্টুনবিহীন নির্ধারিত ঘাট অর্থাত্ কলিং স্টেশন নয় সেগুলো থেকেও জোর-জবরদস্তি করে টাকা আদায় করা হচ্ছে। লঞ্চঘাটগুলোতে পন্টুন স্থাপন করা হলেই যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব হতো এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়ত। চরমণ্ডল লঞ্চঘাটের খাস কালেকশনের দায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে টাকা আদায় করা হচ্ছে।
