রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমেই সমঝোতা তৈরি হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি হবে
বাংলার মানুষ গণতন্ত্রের নামই কেবল শুনেছে কিন্তু গণতন্ত্রকে কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা শিখতে পারেনি আজও। গণতন্ত্রের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক সমাধান করা যায়। একে অপরকে দোষারোপ না করে ও সময় নষ্ট না করে চাই রাজনৈতিক সমঝোতা। সরকার-বিরোধী ইস্যু নিয়ে আলোচনা শোনা যায় কিন্তু আত্মসমালোচনা শোনা যায় না। গণতান্ত্রিক দেশে বাস করেও সমাজের প্রত্যেক মানুষ সঠিকভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারেন। আর এটার কারণ গণতন্ত্রের চর্চার অভাব। তাই সকল রাজনৈতিক দলের গণতন্ত্রের চর্চার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি আর এটি হলে কেবল রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি হবে এবং অর্থনীতি উন্নত হবে।
মো. আরাফাত
নটরডেম কলেজ,
ঢাকা
দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হলে ক্ষমতা হস্তান্তর সঠিকভাবে করতে হবে
গণতন্ত্র মানে জনগণের শাসন। স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক। বুকে-পিঠে লিখে রাজপথে জীবন দিয়েছিলেন নূর হোসেন। শামসুর রাহমানের ‘বুক তার বাংলাদেশের হূদয়’ নূর হোসেনকে নিয়েই লেখা। প্রতিবছর ১০ নভেম্বর ‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’ও পালনের উদ্যোগ নেন বর্তমান সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় নেতারা। কিন্তু মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা জনগণের জন্যে রচনা করেছেন শোষণতন্ত্র। রাজনীতির লেজুড়বৃত্তায়ন পরিণত হয়েছে দাবানলে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান ইস্যু পদ্মা সেতু স্বপ্নই রয়ে গেল। শুনেছি জনগণকে দেখাবার জন্যে এখন নাকি দরপত্র আহ্বান কিংবা সেতুর কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির দিনেও আমরা নেতাদের অকাট্য দেশপ্রেমের পরিচয় পেয়েছি। বিচার-বহির্ভূত হত্যা, গুম ও তদন্তে স্থিতিশীলতার জন্য ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। অর্থকে অর্থজ্ঞান না করলে বাজেটের টাকাতো জনগণের উপর পুরোপুরিই বর্তাবে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে মাঝেমধ্যে মনে হয় বাংলাদেশের অর্থনীতি চীন, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী। তাজরীন ফ্যাশনস ও রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পরে কোন দিকে এগোলো বাংলাদেশ।
মাইনুল ইসলাম
ব্যবসায় শিক্ষা শাখা,
নটরডেম কলেজ,
ঢাকা
জন দাবি মেনে নেয়ার বিকল্প নেই
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কিন্তু যখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয় তখন ঐ দেশের অর্থনীতি উন্নতির দিকে ধাবিত হতে পারে না। বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকারের লাগামহীন দুর্নীতি, বিরোধী দলের প্রতি অগণতান্ত্রিক আচরণ এবং ক্ষমতা ধরে রাখার হীনমানসিকতার কারণে দেশ আজ এক ভয়াবহ সময় অতিক্রম করছে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক। আমেরিকা, বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। যার পরোক্ষ কারণ দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশ। আর এ অস্থিতিশীলতার সাথে যে প্রশ্নটি জড়িত তা হলো শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা বা না করা। যদি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা হয় তাহলে সরকারের যেমন ক্ষতি হবে তেমন দেশের জনগণের ক্ষতি হবে। আর দেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই দেশের স্বার্থে, দেশের জনগণের স্বার্থে বর্তমান সরকারের উচিত জনগণের দাবি মেনে নিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
শাহীন আলম
মানবিক বিভাগ, নটরডেম কলেজ, ঢাকা
অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত
আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ। এই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সরকারকে সবচেয়ে বেশি কার্য সম্পাদন করতে হয়। আর এজন্য প্রয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। কারণ প্রতিবার দেখা যায় সরকারি দলের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। সরকারি দল ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় না। এতে সরকার বিরোধী দল হরতাল অবরোধ সমাবেশ ইত্যাদি দিয়ে দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। এর ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, দোকান-পাট, শিল্প-কারখানা বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে অর্থনীতির অনেক ক্ষতি হয়। এর জন্য সরকারকে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর খুব জরুরি। আর এ সমস্যা সমাধানে সরকারি দল এবং বিরোধী দলকে সঠিক চিন্তার অধিকারী হতে হবে। তাদেরকে তাদের কার্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। এর মাধ্যমে বলতে পারি, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত।
আব্দুল কাদের জিলানী
বিএএফ শাহীন কলেজ, ঢাকা
