বিভিন্ন এলাকায় তীব্র পানির সংকট

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ২১:৫৮

ভোরে সেহরি খেয়ে ফজরের নামাজ পড়ে যখন অন্য সব এলাকার মানুষ ঘুমাতে যান ঠিক তখন কদমতলী থানাধীন মুরাদপুর লালামিয়া সরকার রোড, মুরাদপুর উল্টরপাড়া, জুরাইন মাদ্রাসা রোড, পূর্ব ধোলাইপাড়, ধনিয়াবাজার এলাকার মানুষ বাড়ি থেকে বের হন মগ-বালতি বা জার নিয়ে। ওয়াসার পাম্পের রিজার্ভ ট্যাংক থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে তারা পানি সংগ্রহ করেন। ইফতারের আগে ও পরেও এমন লাইন ধরে তাদের পানি সংগ্রহ করতে হয়। সেই পানি দিয়ে খাওয়া, গোসল, ওযুসহ সকল দৈনন্দিন কাজ সারতে হয়।

একই চিত্র রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকায়। ওয়াসার পাম্প থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পানি সংগ্রহ করেন এলাকাবাসী। হাঁড়ি, পাতিল, বালতি কিংবা জার নিয়ে একই পরিবারের একাধিক লোক এসে লাইনে দাঁড়ান। যাতে একবার পানি নিয়ে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সব কাজ সারা যায়। গত একমাস ধরে ওয়াসার পানি পাচ্ছেন না মগবাজার ওয়ারলেসসংলগ্ন পেয়ারাবাগ এলাকাবাসী। পেয়ারাবাগ মসজিদের পাশের বাসাগুলোতে মধ্যরাত পর্যন্ত পানি ধরে রাখার প্রতিযোগিতায় জেগে থাকেন বাসিন্দারা।

সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতার করেন রাজধানী ঢাকার কোটি মানুষ। কিন্তু পানির অভাবে বিভিন্ন এলাকায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে অনেক মানুষকে। অনেক জায়গায় ওয়াসার পানি পেলেও দুর্গন্ধের কারণে ব্যবহার করতে পারছেন না বাসিন্দারা। আবার অনেক এলাকায় পানি না পাওয়ায় ওয়াসার গাড়ি থেকে পানির জার ক্রয় করতে হচ্ছে। যদি গাড়ি না আসে তাহলে বাজারের বোতলজাত পানির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বৈশাখের প্রচণ্ড গরমে নাগরিক জীবনে হাঁসফাঁস। তার ওপর নেই পানি। রাজধানীর বসবাসরত বহু রোজাদার পানির কষ্টে চরম ভোগান্তিতে আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর কচুক্ষেত, উত্তর কাফরুল, দক্ষিণ কাফরুল, দারুস সালাম রোড, শ্যামলী, মিরপুর ১৩-এর সি ব্লকে ১ নম্বর রোড, মিরপুর ১৪, মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকা, উত্তর ও দক্ষিণ ইব্রাহীমপুর, ইব্রাহীমপুর বাজার, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, গেন্ডারিয়া, পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের রেবতি মোহন দাস লেন, লক্ষ্মীবাজার নাজিমুদ্দিন রোড, চকবাজার, ইমামগঞ্জ, পাতলা খান লেন, আগামসি লেন, আরমানিটোলা, বংশালের সিদ্দিক বাজার, বিআরটিসি বাস ডিপো, কাপ্তানবাজার, নাজিরাবাজার, চাঁনখারপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় কোথাও পানির তীব্র সঙ্কট আবার কোথাও পানিতে ময়লা-দুর্গন্ধ। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে কোনো কোনো এলাকায় একমাস পর্যন্ত ওয়াসার পানি নাই। আবার কোনো এলাকায় ওয়াসার পাইপে পানি আসলেও তা ব্যবহারের অনুপযোগী।

ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) এ কে এম শহীদউদ্দিন জানান, গরমের মাত্রাটা অনেক বেশি। ফলে পাম্পের ওপর চাপ কিছুটা বেড়েছে। এতে সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হয়। কিন্তু এটা ইচ্ছা করে করা হয় না। অনেক সময় বৈদ্যুতিক কারণে মোটর পুড়ে যায় অথবা একটা তার পুড়ে যায়, সেখানে আমাদের হাত থাকে না। তবে জানার সঙ্গে সঙ্গে মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়। যেসব এলাকার সংকটের কথা আমরা জানতে পারছি, সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যবস্থা নিচ্ছি।