গাজীপুর সিটি নির্বাচন

বেসরকারি ফলাফলে মান্নানকে বিজয়ী ঘোষণা

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৯
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি) নির্বাচনে ৩৯২ কেন্দ্রের সবক’টির বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী বিএনপি নেতা অধ্যাপক এমএ মান্নান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪শ’ ৪৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা ও ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী এডভোকেট আজমত উল্লা খান পেয়েছেন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮শ’ ৬৭ ভোট। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রিটার্নিং অফিসার মতিয়ার রহমান বেসর-কারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবক’টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নান এক লাখ ছয় হাজার ৫৭৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতীক ছিল টেলিভিশন। শনিবার বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উত্সবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৯ ভোটারের মধ্যে ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা মোট ভোটের প্রায় ৬৫ শতাংশ। প্রদত্ত মোট ভোটের ১৮ হাজার ৪৬টি বাতিল হয়। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো সাবেক ছাত্র লীগের নেতা জাহাঙ্গীর আলমের আনারস প্রতীকে ভোট পড়েছে ৩ হাজার ১১৯। এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদের ঘোড়া ৪ হাজার ৬৪০, আমান উল্লাহ’র তালা ১ হাজার ২৫৫, মেজবাহউদ্দিন সরকার রুবেলের হাঁস ১ হাজার ৬৭৭, রিনা সুলতানার প্রজাপতি প্রতীকে ১ হাজার ৪৬ ভোট পড়েছে। দু’টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের ৩২৯ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত দেশের ১১তম এ সিটি কর্পোরেশনের এটিই প্রথম নির্বাচন। মোট ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৯ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ২৭ হাজার ৭৭৭ ও নারী ৪ লাখ ৯৯ হাজার ১৬২। নির্বাচনে মেয়র পদে ৭, সংরক্ষিত কাউন্সিলর আসনে ১২৮ এবং সাধারণ আসনে ৪৫৬ জন কাউন্সিলরসহ মোট ৫৯১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই করপোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৭ ও সংরক্ষিত মহিলা আসন ১৯। মেয়র পদে ৭ প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ও নেজামে ইসলাম পার্টির মওলানা রফিকুল ইসলাম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ভোটগ্রহণে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারসহ ৭ হাজার ২৫৯ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। এরমধ্যে ছিলেন ৩৯২ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ২ হাজার ২৮৯ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ৪ হাজার ৫৭৮ জন পোলিং কর্মকর্তা। নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তায় ৫ হাজার পুলিশ সদস্য, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১২ প্লাটুন সদস্য, ৮৪৭ জন র্যাব ও আনসার সদস্যসহ ১১ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করে।