সংকটে ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
নানামুখী সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ। কলেজটিতে কোনো নিয়মিত কমিটি নেই। নেই এডহক কমিটিও। অন্যদিকে শুধু অধ্যক্ষ নিয়োগকালীন সময়ের জন্য দায়িত্বে থাকা ফেরদৌসী বেগমের হাতেই এখন পুরো প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। কলেজটির প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক হারুন অর রশীদ বলেন, নিয়মিত কমিটি মেয়াদ শেষ হবার একমাস পূর্বে নির্বাচনের সকল প্রক্রিয়া শেষ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু গভর্নিং বডি তা করেনি। এছাড়া এখন পর্যন্ত এডহক কমিটির জন্য নামও প্রস্তাব করেনি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। ফলে কোনো কমিটি নেই কলেজটিতে। এখনও এডহক কমিটির নামের প্রস্তাব না পাঠানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়ী করেছেন ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা।
অন্যদিকে অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় ৩০ এর মধ্যে সাড়ে ৩ পাওয়া একজন প্রার্থীকে অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ দিতে গিয়েই যত বিপত্তি ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে অনিয়মের। এ কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই নিয়োগ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ) অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী এবং অস্থায়ী অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের স্বপদে রেখে তদন্ত করা হয়েছে। যার ফলে তদন্ত সুষ্ঠু নাও হতে পারে।
তদন্ত কমিটিতে কমিটির প্রধান রয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব। এছাড়া শিক্ষা ক্যাডারের অন্য দুইজন সদস্য রাখা হয়েছে যাদের পদমর্যাদা পরিচালকের (কলেজ প্রশাসন) নিচে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি মাউশির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদ পরিচালক (কলেজ প্রশাসন)। এ কারণে তদন্ত সুষ্ঠু নাও হতে পারে।
অন্যদিকে খোরশেদ আলম নামে এক অভিভাবক বলেন, যারা কলেজের অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছে তাদের কোনো মতামত নেয়নি তদন্ত কমিটি।
তবে কলেজ পরিদর্শক হারুন অর রশীদ বলেন, সবার মতামত নিয়েছি। এছাড়া মাউশির পরিচালকের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে বিব্রত হবার কিছুই নেই। নিরপেক্ষ তদন্ত করবো। রিপোর্ট প্রকাশ পেলেই দেখতে পারবেন। অতিশিঘ্রই রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, ভিকারুন নিসায় যেহেতু আমি এখন আর চেয়ারম্যান নেই। এ কারণে খোঁজখবর রাখি না। কমিটির মেয়াদ শেষ হবার পূর্বে কেন নির্বাচন হলো না এ বিষয়ে তিনি বলেন, এক ছাত্রী মারা যাওয়ার কারণে সংকট তৈরি হয়েছিল। এছাড়া গভর্নিং বডির কিছু সদস্য ভুল বুঝিয়েছিল যে কমিটির মেয়াদ বাড়ানো যাবে। এ কারণে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি।
