একাত্তরের এপ্রিলে করাচিতে সালমান এফ রহমানের বাড়িতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হয়। এরপর ১৯৭৪ সালের এপ্রিল কিংবা মে মাসে তার সঙ্গে দেখা হয় ঢাকার হোটেল পূর্বাণীতে। ৭১ আর ৭৪ সালের মাঝখানের ঐ সময়টাতে আমি সালাহউদ্দিন কাদেরকে দেখিনি। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী নিজাম আহমেদ (৬৩) তার সাক্ষ্যে এ কথা বলেন। গতকাল সোমবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সালমান এফ রহমান, কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, সালাহউদ্দিন কাদের ও আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম। আসাদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় আমার দুই ফুট দূরে ছিলেন। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা শুরু করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
এদিকে মামলার কার্যক্রম শেষে এজলাস থেকে নামার সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি আইনজীবী ও সাংবাদিকদের বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে সরকার ছয় শূন্যতে হোয়াইট ওয়াশ হয়েছে। আমার সাফাই সাক্ষীতো গাজীপুরে হয়ে গেছে।
জবানবন্দিতে নিজাম আহমেদ বলেন, সালাহউদ্দিন কাদেরের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় নটর ডেম কলেজে। আমার বন্ধু কাইয়ুম সালাহউদ্দিন কাদের ও সালমান এফ রহমানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আমরা বন্ধু ছিলাম এবং একসাথে ঘোরাফেরা করতাম। পরবর্তীতে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬৮-৬৯ ব্যাচে ভর্তি হই। সালাহউদ্দিন কাদের ঐ সময় ধানমন্ডিতে বসবাস করতেন। আমরা সকলেই ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তিনি বলেন, বিদেশি সাংবাদিকদের প্রেস রিলিজের কপি দেয়ার জন্য ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ সন্ধ্যার দিকে আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রেস সেক্রেটারি আমিনুল হক বাদশার সঙ্গে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে যাই। ঐদিন রাত সাড়ে দশটার দিকে পাকিস্তানি সেনারা জানায়, হোটেল থেকে কেউ বের হতে পারবে না। আমরা ২৫ মার্চ রাত থেকে ২৭ মার্চ সকালে কারফিউ ভাঙ্গার আগ পর্যন্ত ঐ হোটেলেই ছিলাম। সেখানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং এবং ফরাসী ফটোগ্রাফার মিশেলও ছিলেন।
২৮ মার্চ আমি এবং কাইয়ুম ধানমন্ডির ৮ নম্বর রোডে (পুরাতন) অবস্থিত সুইডিস পরিবারের বাসায় উঠি। বাসাটি সালাহউদ্দিন কাদেরের বাসার দুই রাস্তা পরে ছিল। ঐ বাসায় আমরা ৪ থেকে ৫ দিন ছিলাম। কাইয়ুম উর্দু ভাষা জানতো বলে গাড়ি নিয়ে বের হতো। সে সময় শেখ কামালের সঙ্গে কাইয়ুমের দেখা হয়। শেখ কামালও আমাদের সঙ্গে ঐ সুইডিস বাসায় থাকা শুরু করেন। ঐ বাসায় থাকার সময় সালাহউদ্দিন কাদেরকে বিমানবন্দরে রেখে আসার কথা জানিয়েছিলো কাইয়ুম। এছাড়া শেখ কামালকে ট্যাক্সির ব্যবস্থা করে আরিচা ফেরিঘাটের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেয় কাইয়ুম। তবে শেখ কামাল যেতে না পেরে ফিরে এসেছিলেন।
পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকার ঐ সুইডিস পরিবারকে ঢাকা ছাড়ার জন্য নির্দেশ দিলে তারা গাড়িতে করে আমাদেরকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে কাইয়ুমের বোনের ভাড়া বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ঐ বাসায় আমরা শেখ কামালসহ আনুমানিক ৩ থেকে ৪ দিন ছিলাম। তারপর আমি নিউ ইস্কাটনস্থ আমার খালার বাসায় চলে যাই। তখন শুনলাম আমার অনেক বন্ধু করাচি চলে যাচ্ছে। আমিও চিন্তা করলাম যে, করাচি গিয়ে খাইবার পাস হয়ে জার্মানিতে যাবো। কারণ আমাদের কয়েকজন বন্ধু জার্মানিতে ছিল। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের ৭ কিংবা ৮ তারিখে কাইয়ুম, সালমান এবং আমি একই বিমানে করে করাচিতে গিয়ে সালমানের বাসায় উঠি। সেখানে দু-একদিন পরে সালাহউদ্দিন কাদের আমাদের দেখতে আসে। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের এপ্রিল কিংবা মে মাসে ঢাকার হোটেল পূর্বাণীতে সালাহউদ্দিন কাদেরের সঙ্গে আমার দেখা হয়।
