চাহিদার চেয়ে মজুদ বেশি, তারপরও লাগামহীনভাবে বাড়ছে পিঁয়াজের দাম। আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিমের বাজারে বাজারে নজরদারি, ব্যবসায়ীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক— কোনকিছুই কাজে আসছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম বাড়ছে হু হু করে।
সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের ( টিসিবি) হিসেবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আমদানিকৃত পিঁয়াজ প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৬১ দশমিক ১১ শতাংশ। আর দেশি পিঁয়াজ বেড়েছে ৪০ দশমিক ৯১ শতাংশ। গতকাল সোমবার টিসিবির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খুচরা বাজারদরের তালিকায় দেখা যায়, এক মাস আগে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে মানভেদে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পিঁয়াজ ২৬ থেকে ২৮ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৩২ থেকে ৩৪ টাকায় বিক্রি হয়; কিন্তু গতকাল তা বিক্রি হয় যথাক্রমে ৪২ থেকে ৪৫ টাকা ও ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পিঁয়াজ কেজিতে ১৬ থেকে ১৭ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ১৩ থেকে ১৪ টাকা বেড়েছে। তবে বাস্তবে ক্রেতার জন্য দাম বেড়েছে আরো বেশি। গতকাল বাজারে দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা কেজি।
বেশি মজুদ সত্ত্বেও দাম বাড়ছে
দেশে প্রতি বছর পিঁয়াজের চাহিদা ১৮ লাখ টন। এরমধ্যে শুধু রমজানেই ৩ লাখ টনের চাহিদা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই জানিয়েছে, গত বছর জুলাই থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত দেশে মজুদ পিঁয়াজের পরিমাণ ২৪ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৭ টন। অর্থাত্ অতিরিক্ত রয়েছে ৬ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৭ টন। এছাড়া গত জুন থেকে চলতি জুলাইতে পিঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে।
কেন বাড়ছে পিঁয়াজের দাম?
অভিজ্ঞ সূত্র দাবি করেছে, এই মুহূর্তে দেশে পিঁয়াজের দাম বাড়ার যৌক্তিক কোন কারণ নেই। রমজানকে উপলক্ষ করে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়াচ্ছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির। এই চক্রটি ভারতে পিঁয়াজের দাম বেশি, দেশে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম— এমনসব অজুহাত দেখিয়ে পিঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে।
ঢাকা মহানগর কাঁচা বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন শিকদার গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, প্রতি বছর রমজান আসলে একটি চক্র পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মুনাফা করে। তারা পণ্যের সরবরাহ সংকট, দাম বেশি ইত্যাদি বলে অপপ্রচার চালিয়ে দাম বাড়ায়। নইলে এবার পিঁয়াজের দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেশি লাভ করার সুযোগ থাকে না। কারণ, তাদের বেশি দামেই কিনতে হয়। একই কথা বললেন, কাওরান বাজারের পিঁয়াজ ব্যবসায়ী কবির। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারেই পিঁয়াজের দাম বেশি। তবে ১০ রমজানের পর দাম কমবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, চাহিদা বাড়ায় অনেক সময় মজুদদাররা দাম বাড়িয়ে দেন। তারপর চাহিদা কমলে দাম কমে যায়।
