শবেবরাতের ভোররাতে সাভারের আমিন বাজারের কেবলার চরে ছয় ছাত্রকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ৬০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত প্রথম ৪০ আসামির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হত্যা ও আলামত গুমের অপরাধে ও অপর ২০ আসামির বিরুদ্ধে এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র ভিকটিমকে গুরুতর আঘাতসহ হত্যা চেষ্টার অপরাধে অভিযোগ গঠন করে। এর মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
গতকাল সোমবার এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিলো। রাষ্ট্রপক্ষে অভিযোগ গঠনের শুনানি করেন অতিরিক্ত পিপি আনন্দচন্দ্র বিশ্বাস। আসামিদের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মশিহুর রহমান সেলিম, শিউলী আক্তার খান, হাজেরা বেগম আজরা ও জামিল আহম্মেদ প্রমুখ। শুনানিশেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. হেলালউদ্দিন এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার পলাতক ২৫ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ও বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
এ মামলার ৬০ আসামির মধ্যে ২৫ জন পলাতক ও ৩০ জন জামিনে আছেন। কারাগারে আছেন পাঁচ জন। তারা হলেন- জমসের আলী, মো. আসলাম, আবু সাঈদ, মীর হোসেন ও রজব আলী। কারগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা সব আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- আব্দুল মালেক, সাঈদ মেম্বার, আব্দুর রশীদ, ইসমাইল হোসেন রেফু, নিহার ওরফে জমসেদ আলম, মীর হোসেন, মজিবুর ওরফে বরিশাইল্যা মজিবুর, কবির হোসেন, আনোয়ার হোসেন, রজব আলী সোহাগ, আলম, মো. রানা, আব্দুল হামিদ, আসলাম মিয়া, শাহিন আহমেদ, ফরিদ খান, রাজিব হোসেন, রহিম ওরফে হাত কাটা রহিম, ওয়াশিম, সেলিম (১), সানোয়ার, শামসুল হক, রাশেদ, সাইফুল, সাগর, সেলিম (২), আক্তার, মনির, সাকিব, আলমগীর, আনোয়ার হোসেন, মোবারেক, অকিল, বশির, রুবেল, নূরুল ইসলাম, আমিন, সালেহ আহমেদ, শাহাদাত্ হোসেন, টুটুল, তুহিন, মাসুদ, নিজাম, মোখলেছ, কালাম, আফজাল, বাদশাহ, তোতন, সাইফুল, রহিম, শাহজাদা, সুলতান, মোস্তফা, নোমান, আমিন, এনায়েত, হায়দার, খালেদ, ইমন, দুলাল ও তালাত।
যে ছয় ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে তারা হলেন- শামস রহিম শাম্মাম, ইব্রাহীম খলিল, তৌহিদুর রহমান পলাশ, টিপু সুলতান, সিতাব জাবীর মুনিব ও কামরুজ্জামান কান্ত। এদের মধ্যে ইব্রাহীম, পলাশ, কান্ত মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের, টিপু তেজগাঁও কলেজ, মুনিব বিউবিটি এবং শাম্মাম ধানমন্ডির মেপললিফে এ লেভেলের ছাত্র। আদালতে উপস্থিত নিহত ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশের মা শাহানুর বেগম ও নিহত আরেক ছাত্র ইব্রাহীম খলিলের মা বিউটি বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করায় তারা খুশি হলেও মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেয়ার দাবি জানান।
এর আগে সাভার থানার পুলিশ ও সিআইডির তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। গত ৭ জানুয়ারি র্যাবের অতিরিক্ত সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদ ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সাক্ষী করা হয় ৯৬ জনকে। ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া নিহত ছাত্রদের বন্ধু আল-আমিনকে ডাকাতি মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১৪ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবে বরাতের রাতে আমিন বাজারের বড়দেশী গ্রাম সংলগ্ন কেবলার চরে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের তিন শিক্ষার্থীসহ ছয় কলেজ ছাত্রকে। নিহতদের সঙ্গে থাকা বন্ধু আল-আমিন গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।
ঘটনার পর কথিত ডাকাতির অভিযোগে বেঁচে যাওয়া আল-আমিনসহ নিহতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেন স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী আবদুল মালেক। এদিকে, সাভার থানার পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত পাঁচ ছয়শ গ্রামবাসীকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে।
