প্রবল বর্ষণে ঠাকুরগাঁওয়ে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। জেলার টাঙ্গন, শুক, সেনুয়া, কুলিক ও নাগর নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার দুর্ভোগে রয়েছে পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ। বিভিন্ন সে্্বচ্ছাসেবী সংগঠন শুকনো খাবার সরবরাহ করছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। নদী সংলগ্ন শহরের ডিস বস্তি, হঠাত্পাড়া, পূর্ব হাজীপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, মুসলিমনগর, রাজাগাঁও, গোবিন্দনগর, জমিদারপাড়া, আকচা, দক্ষিণবঠিনা, ঠান্ডিরাম ও কালিতলাসহ আরো ২৫টি গ্রাম সোমবার রাতে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী ৫ হাজারের বেশি পরিবার। গত ৩ দিনে এ জেলার ৫৫ গ্রামের মানুষ পানিতে আটকা পড়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে সরকারি ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন দুর্গতরা।
হঠাত্পাড়ার ইউনুস, নাজমা খাতুন, এনামুল জানান, সারারাতের বর্ষণ আর টাঙ্গন নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় ঘরের ভেতরে কোমড় পর্যন্ত পানি উঠেছে। তারা অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিউল এনাম পারভেজ ?জানান, তার এলাকায় প্রায় ৪শ’ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। সরকারি সহায়তা দেয়া হয়নি। এছাড়াও জেলার পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গীর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে ।
রবিবার ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেলপথের কুজিশহর নামক স্থান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া রেল যোগাযোগ এখনো শুরু হয়নি। ঠাকুরগাঁও রোড রেল স্টেশন ম্যানেজার মজনুর রহমান জানান, রেলপথের মেরামত কাজ চলছে।
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতে দিনাজপুরে বন্যা দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন গ্রাম। বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে জেলার প্রায় সবক’টি নদ-নদীর পানি। এদিকে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রাজারামপুর গ্রামে ঢেপা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফাটল এবং কিছু অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় ওই এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, গত ক’দিনের বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দিনাজপুরের সব নদ-নদীর পানি হঠাত্ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে পুনর্ভবা নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। তিনি জানান, পুনর্ভবা নদীর বিপদসীমা ৩৩ দশমিক ৫০ মিটার। এই নদী এখন ৩৩ মিটার অতিক্রম করছে। আত্রাই নদীর বিপদসীমা ৩৯ দশমিক ৬৫ মিটার। প্রবাহিত হচ্ছে ৩৮ দশমিক ৩২ মিটারে। জেলার পার্শ্ববর্তী টাঙ্গন নদী এবং করতোয়া নদীর বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার ১৭টি নদীর সবক’টিতেই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলা ২নং ফরক্কাবাদ ইউনিয়ন এবং ১নং আজিমপুর গ্রামের ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও রোপা আমনক্ষেত তলিয়ে গেছে। এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে, নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে। ১নং আজিমপুর ইউনিয়নের ইউপি মেম্বার মিলন চন্দ্র রায় জানান, ওই ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামে ঢেপা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে। গত ২৪ ঘন্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দিনাজপুরে ৭৯ দশমিক ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পীরগঞ্জে ১৬টি গ্রাম প্লাবিত
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা জানান, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে পঞ্চগড় জেলার টাঙ্গন ব্যারেজের উজানে পানির চাপে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ব্যারেজ খুলে দেয়ায় ভাটিতে অবস্থিত ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার টাঙ্গন নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কোষারানীগঞ্জে টাঙ্গন ব্রিজের উভয় পাশে ‘এপ্রোচ রোড’ ভেসে গেছে। প্লাবিত গ্রামগুলো হচ্ছেঃ ২নং কোষারানীগঞ্জ ইউনিয়নের আকাশীল, মালঞ্চা কনপাড়া, কোষা ডাঙ্গি পাড়া, কোষা বন্দর পাড়া, বাজার দেহা, ৩নং খনগাঁও ইউনিয়নের হাবিবপুর, ৫নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের পার ভবানীপুর, ৬নং পীরগঞ্জ ইউনিয়নের মছলন্দপুর, ৮নং দৌলতপুর ইউনিয়নের সাগুনি, ১০ নং ইউনিয়নের জাবর হাট, ১১নং ইউনিয়নের নোয়া পাড়া, বৈরচুনা, আজলাবাদ, মাধবপুর, ইন্দ্রোইল, শিরাইলসহ নদীর উভয় তীরবর্তী পীরগঞ্জ ও বোচাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
