পদ্মা সেতুতে ২৪০ কোটি ডলার দিতে চায় চীন

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৫১
পদ্মা সেতু প্রকল্পে আবারও চীনা অর্থায়নের কথা বললো সরকার। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, বহুল আলোচিত এই প্রকল্পে চীন ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন (২৪০ কোটি) মার্কিন ডলার ঋণ দিতে আগ্রহী। এমনকি দেশটি চলতি মাসের মধ্যেই এ ব্যাপারে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে আগ্রহী। গতকাল সচিবালয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সিম ব্যাংক ও পলিটেক ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে এর আগেও চীন অর্থায়নের কথা বলেছিল। দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক ঋণ মঞ্জুর স্থগিত করার পর সরকারের পক্ষ থেকে অর্থায়নের ব্যাপারে চীনের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আর বাস্তব প্রক্রিয়ায় গড়ায়নি। যোগাযোগমন্ত্রী গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, চীনের প্রস্তাবটি এসেছে বেশ কিছুদিন আগেই। মঙ্গলবার এটা নিয়ে প্রথম দফা আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে মাত্র। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি বিবেচনায় নিয়ে ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠিয়ে দিয়েছে। ওই বিভাগের বিবেচনার পর সরকার এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। অবশ্য চীন সরকার কেবল পদ্মা সেতু প্রকল্প নয়, বাংলাদেশের আরও দুইটি বড় কাজে বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখিয়েছে। এগুলো হলো নদী শাসন এবং ঢাকা- চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এখন চীনা অর্থায়ন নিতে গেলে কোনো জটিলতা হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞরাই তো বলছেন যে, শতভাগ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে গেলে দেশের অর্থনীতির উপর নেতিবাচক চাপ পড়বে। এ অবস্থায় বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে দেশের অর্থনীতির উপর চাপ এড়ানো গেলে সেটা তো দেশের জন্যই ভালো। এখানে জটিলতার তো কোনো কারণ নেই। রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ নিয়ে আমি নিজেই হতাশ। যদিও ফ্লাইওভারটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওরিয়নের পক্ষ থেকে আমাকে বলা হয়েছে যে, ঈদের আগে একটা লেন খুলে দেয়া হবে।