ঠাকুরগাঁওয়ে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৩, ২১:৫২
ঠাকুরগাঁওয়ে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে পানিবন্দী মানুষ। মঙ্গলবার রাতে শহরের শান্তিনগর এলাকা থেকে জাফর (১২) নামে আরও এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। এ নিয়ে দুইদিনে ঠাকুরগাঁওয়ে বন্যার পানিতে ডুবে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার টাঙন, শুক, সেনুয়া, কুলিক ও নাগর নদীর পানি কিছুটা কমলেও বন্যাকবলিত দুর্গত এলাকা থেকে পানি নামেনি। শহরের টাঙন নদী সংলগ্ন কলেজপাড়া, মুন্সিপাড়া, ডিস বস্তি, হঠাত্পাড়া, মুসলিমনগর, আকচা, দক্ষিণ বঠিনা, ঠাণ্ডিরাম, কালিতলা গ্রামের দুই সহস্রাধিক পরিবার উঁচু এলাকা ও বিভিন্ন স্কুলে অবস্থান নিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণসমগ্রী না পৌঁছায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে পানি উঠায় ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেল যোগাযোগ রবিবার থেকে বন্ধ রয়েছে। পানি না কমা পর্যন্ত ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন রেলস্টেশন মাস্টার মজনুর রহমান। অপরদিকে বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ-সেতাবগঞ্জ সড়কের সেনিহারি এলাকায় পানির তোড়ে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী জানান, এ পর্যন্ত ১৯টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৪ টন চাল ও ২০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১শ টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পর তা বিতরণ করা হচ্ছে। পাটগ্রাম ও দহগ্রামে পানিবন্দি ৫ হাজার পরিবার পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা জানান, অতি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম ও দহগ্রামে বন্যা প্রবল আকার ধারণ করেছে। বন্যায় পাটগ্রাম পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড এবং দহগ্রামের প্রায় ৫ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। বন্যার পানিতে পৌরসভার ওয়ার্ড এলাকার সাহেবডাঙ্গা, বাঁধেরপাড়, নিউ পূর্বপাড়া, বেংকান্দা, ডাবাডুবিরঘাট, কোটতলী, চাত্রারপাড়, সোহাগপুর এলাকায় ফুঁসে উঠা ধরলা নদীর বন্যার পানিতে প্রায় দুই সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। অপরদিকে দহগ্রাম ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চলসহ তিস্তারচর, আবুলেরচর, বড়বাড়ী, সর্দারপাড়া, মুন্সিপাড়া আদর্শ গ্রাম, মহিমপাড়া, কাদেরেরচর, কাতিপাড়া, সৈয়দপাড়া, গুচ্ছগ্রাম ও নয়ারহাট এলাকা বন্যা চরম আকার ধারণ করেছে। এলাকাগুলোতে প্রায় তিন হাজার পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল বন্যায় উপজেলার কয়েকশ একর রোপা-আমন ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।