ভ্যাটের হার কমানো হবে :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৩
ভ্যাটের (মূল্য সংযোজন কর) ১৫ শতাংশের হার বেশি বলে স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এই হার কমবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই হার কমিয়ে আনা হবে। এটি কীভাবে কমতে পারে তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মূসক (ভ্যাট) দিবসের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা বিদ্যমান মূসকের হার বেশি বলে অভিযোগ তোলেন। গত ২০১২ সালে ভ্যাট আইন পাস হয়েছে। আইনটি ২০১৫ সালে বাস্তবায়ন শুরু হবে। ওই আইন অনুযায়ী কোন সঙ্কুচিত ভিত্তি মূল্য বা প্যাকেজ পদ্ধতিতে ভ্যাট দেয়ার সুযোগ থাকবে না। সবাইকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে। এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে ব্যবসায়ীরা এই হারটি অনেক বেশি বলে মত দেন। তাদের দাবি, ভ্যাটের হার কমানো হলে আদায় আরো বাড়বে। ভ্যাটের হার বেশি এমন অভিযোগ পরোক্ষভাবে স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে যখন ভ্যাট প্রচলন হয়, তখন ‘আদায় হয়তো সব হবে না’ - এই বিবেচনায় ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, আইনটি পাস হলেও বিভিন্ন স্তরে তা সংশোধন হচ্ছে। নতুন আইনে ‘দুই নম্বরি’ হিসাব রাখার সুযোগ হবে না। আগামী কয়েক বছর পর শুল্ক থাকবে না। তখন চিন্তা করতে হবে, কেত্থেকে রাজস্ব আদায় হবে। রাজস্ব জনকল্যাণে ব্যয় হয় এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার যতই দুষ্ট হোক মানুষের কল্যাণে কিছু কাজ করে। আগামী দুই-তিন বছরে আয়কর হবে রাজস্বের বড় উত্স। এরপর থাকবে ভ্যাট। তবে এর সাথে যুক্ত হবে ‘ইউজার ফি’। চলতি অর্থবছরে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আদায় করতে হবে ভ্যাট থেকে। এই খাত থেকে আদায় হবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। সদ্য বিগত ২০১২-১৩ অর্থবছরে ভ্যাট থেকে ৪০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৮ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা। আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দিতে চান। কিন্তু অস্বাভাবিক ব্যাংক ঋণের সুদ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভ্যাট বৈষম্য ও আইনের দুর্বলতার কারণে ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দিতে নিরুত্সাহিত হন। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআর সদস্য ফিরোজ শাহ আলম। বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আব্দুল হক, উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমেদ প্রমুখ। ব্যবসায়ীরা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই ভ্যাট নেই। বাংলাদেশে কর-হার সহনশীল করে আদায় প্রক্রিয়া করদাতা-বান্ধব করতে হবে। তারা ভ্যাটের হার বিদ্যমান ১৫ শতাংশের স্থলে ১০ শতাংশ করার দাবি জানিয়ে বলেন, এটি করা হলে ভ্যাট শতভাগ আদায় হবে। উচ্চহার হলে সেখানে ফাঁকির প্রবণতা থাকে। তবে এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় আন্তর্জাতিক ভ্যাট ব্যবস্থা বাংলাদেশে চালু করা সম্ভব নয়। তবে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কীভাবে ব্যবসায়ী-বান্ধব করা যায় সে বিষয়ে পরামর্শ নেয়া হবে। এর আগে ভ্যাট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআর ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী। আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী মূসক সপ্তাহ পালন করা হবে। শীর্ষ ভ্যাটদাতাদের সম্মাননা গতকাল জাতীয় পর্যায়ে ৯ প্রতিষ্ঠান ও সারা দেশের ১২২টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ভ্যাট দেয়ায় সম্মাননা দেয়া হয়। এর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের ৯টি ও ঢাকা বিভাগের ২১টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থমন্ত্রী সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিলেটের কৈলাসটিলা গ্যাস ফিল্ড, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড, হরিপুর গ্যাস ফিল্ড, ব্যুরোভেরিতার কনজুমার প্রোডাক্টস, ডিএইচএল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, অন মোবাইল গ্লোবাল, কাশেম ড্রাইসেলস, তিয়ানসি (বাংলাদেশ) কোম্পানি ও আড়ং (উত্তরা)। এছাড়া ঢাকা বিভাগের ২১টি প্রতিষ্ঠান হলো সাভারের টেকনো ভেঞ্চার, বসুন্ধরার আইএসডি ইন্টার স্কুল, আড়ং (মগবাজার)। মুন্সিগঞ্জের এ এন জেট কপার ইন্ডাস্ট্রি, মালা মিষ্টান্ন ভান্ডার, সেলিম এন্ড ব্রাদার্স। নারায়ণগঞ্জের আবুল খায়ের স্টীল, সিকিউরা বিডি ও আর এইচ ট্রেডিং। নরসিংদীর আর এফ এল প্লাস্টিক। গাজীপুরের অ্যাকোয়া মিনারেল ওয়াটার এন্ড সলবেন্টস প্লান্টস, ডি কস্টা ইউটিলিটি সার্ভিস (ডিএক্সেল), মেরিকো বাংলাদেশ। ময়মনসিংহের রানার মটরস ও উত্তরা মটরস। মানিকগঞ্জের সুপারসাইন ইন্ডাস্ট্রিজ, রাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট ও মাহীন ট্রেডার্স। টাঙ্গাইলের মাসাফি ব্রেড এন্ড বিস্কুট ও জুপিটার এন্টারপ্রাইজ। জামালপুরের হেমাস কনজ্যুমারস ব্র্যান্ডস। এছাড়া দেশের বিভাগীয় জেলাগুলোতে সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতাদের সম্মাননা দেয়া হয়।