খুলনা ওয়াসা চাহিদার অর্ধেক পানি যোগান দিতে পারছে না

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৬
খুলনায় ওয়াসা প্রতিষ্ঠার ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নগরবাসীর মোট পানির চাহিদার অর্ধেকও সরবরাহ করতে পারছে না। নগরবাসীকে এখনো মোট পানির চাহিদার ৫২ ভাগ নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। এখন পর্যন্ত ওয়াসা পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানির মোট চাহিদার মাত্র ৪২ ভাগ সরবরাহ করতে পারছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ওয়াসার পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে হলে নগরবাসীকে আরো ৪ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সুপেয় পানির তেমন একটা সংকট থাকে না। কিন্তু গ্রীষ্ম মৌসুমে নগরবাসীকে চরমভাবে পানির সংকটে পড়তে হয়। এছাড়া গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপে ঠিকমত পানি পাওয়া যায় না। ফলে এ সময় পানির সংকট চরম আকার নেয়। ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, ১৭ দশমিক ৬২ বর্গমাইল আয়তনের খুলনা মহানগরীতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। বর্তমানে নগরীতে ৬১ হাজার ৬৬৫টি হোল্ডিং রয়েছে। বিপুল এ জনসংখ্যার সুপেয় পানির চাহিদা রয়েছে প্রতিদিন ২৪ কোটি লিটার। কিন্তু ওয়াসা সেখানে যোগান দিতে পারে মাত্র ১৩ কোটি লিটার পানি। যা চাহিদার শতকরা মাত্র ৪২ ভাগ। বাকি ৫২ ভাগ পানি গভীর-অগভীর নলকূপ এবং ব্যক্তি উদ্যোগে সরবরাহের মাধ্যমে চাহিদার শতভাগ পূরণ করা হচ্ছে। নগরীতে বর্তমানে ২২ হাজার নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে ১৬ হাজার গভীর এবং ৬ হাজার অগভীর নলকূপ। কিন্তু ভূ-গর্ভস্থ পানির উত্তোলন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে আশানুরূপ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানির স্তর ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে পানির সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সংকট উত্তরণে নগরীতে ১৩টি গভীর উত্পাদক নলকূপ বসিয়ে পাম্পের মাধ্যমে লাইনে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ওয়াসাকে স্বনির্ভর হতে হলে সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় থাকা জরুরি। ওয়াসার মাস্টার প্ল্যান ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয় হলেই ওয়াসার পূর্ণাঙ্গ সুফল পাওয়া সম্ভব। ওয়াসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭১০ জন গ্রাহককে নতুন সংযোগ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে নতুন সংযোগ এবং নষ্ট পাইপ লাইন মেরামতের ক্ষেত্রে অনেকটাই সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়। কারণ নতুন সংযোগ এবং নষ্ট লাইন মেরামতের জন্য রাস্তা কাটতে নিতে হয় সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি। এ কারণে ওয়াসা গ্রাহকদের নতুন সংযোগ দিতে পারছে না। ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাগেরহাট জেলার সামন্তসেনা এলাকায় ‘সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ স্থাপন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় নগরীতে সাতশ’ কিলোমিটার পানির লাইন স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিটি হোল্ডিংয়ে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ২০১৭ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রতিদিন ১২ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এদিকে সরবরাহ ঘাটতি থাকলেও রমজান মাসে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ওয়াসা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এবারের রমজানে পানির চাহিদা বাড়বে এমন ধারণা থেকে ৮টির স্থানে ১০টি মোবাইল ট্যাংক বসানো হয়েছে। এছাড়া ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে ১৬ ঘণ্টা পাম্প চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।