পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ৩০টি পরিবার ৩০ দিন থেকে পানি বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের গান্নাড়পাড় গ্রাম। তিস্তার ধার ঘেঁষা এ গ্রামটির ৩০ পরিবার ৩০ দিন ধরে জলাবদ্ধতা সমস্যায় হিমসিম খাচ্ছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তারা। ইউপি মেম্বার/চেয়ারম্যানদের বলার পরও কোন কাজ হয়নি। গতকাল সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। প্রতিটি বাড়ির উঠোনে কিংবা মেঝের কোথাও কোথাও হাঁটু পানি। লোকজন চৌকির উপর আলাদা চুলায় ৩০ দিন ধরে রান্না করছে। গবাদি পশুগুলোর অবস্থা আরও করুণ।
হাসনারা বেগম নামে মা তার সন্তানদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। বলেন, ‘হামার গুলার পানিত থাকতে থাকতে পাওত ঘাউয়া (ঘাঁ) হইছে’।
ফাতেমা বেগম বলেন, ‘একমাস ধরে চৌকির উপর ভাত আন্দি খাইছোল, হামার যে কি কষ্ট হইছে কায়ো তাক দ্যাকে না’। পানি বন্দি সোলেমান বলেন, মেম্বার-চেয়ারম্যানেরা কিছু ব্যবস্থা করিল না, ভোট দিয়া কি লাভ হইল’।
জামালপুরে যমুনার ভাঙ্গনে ৭ দিনে
সহস্রাধিক ঘর-বাড়ি বিলীন
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, এই উপজেলার তারাকান্দি-ভূঞাপুর-ঢাকা মহাসড়ক যমুনার ভাঙ্গনে হুমকির মুখে। যমুনায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে মাত্র এক সপ্তাহে নদীপাড়ের পিংনা ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের সহস্রাধিক ঘর-বাড়ীসহ কয়েক হাজার একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। অস্বাভাবিক ভাঙ্গনে পার্শ্ববর্তী এলাকার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ ছাড়াও সরিষাবাড়ী উপজেলা ও টাঙ্গাইলের ৬ উপজেলার মানুষ উত্কণ্ঠার মধ্যে বাস করছে। তারাকান্দি-ভূঞাপুর-ঢাকা মহাসড়ক যমুনার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে না পারলে সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাড়াও টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর, ভূঞাপুর, মধুপুর, ধনবাড়ী, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার বিশাল এলাকা যে কোন মুহূর্তে অকাল বন্যায় প্ল¬াবিত হবে বলে দুই জেলার মানুষ আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
রাঙ্গাবালীতে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গ্রাম প্লাবিত
গলাচিপা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বড় বাইশদিয়া পোল্ডারে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের উপর ঘের মালিকদের নির্মিত স্লুইজগেট জোয়ারের পানির চাপে ভেসে গেছে। এতে ১শত মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৩টি গ্রামের ২ হাজার মানুষ পানি বন্দি এবং শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। সূত্র জানায়, রাঙ্গাবালী উপজেলার কানকুনি পাড়া মৌজায় ঘের মালিক সাবু হাওলাদার অবৈধভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধের তাঁতীর খালের উপর স্লুইজ নির্মাণ করে। বৃহস্পতিবার সকালে জোয়ারে তোড়ে স্লুইজ গেটটি ভেঙ্গে অভ্যন্তরভাগে পানি ঢুকে পড়ে। এরপর স্লুইস গেটটির দুই পাশের একশত মিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়। এতে ওই মৌজার ৩টি গ্রামের ২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। কৃষক হাচন হাওলাদার জানান, ক্ষেতের উপর ২/৩ ফুট পানি হওয়ায় চাষাবাদ বন্ধ হয়েগেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মু.লিয়াকত আলী জানান, জোয়ারের পানি নেমে গেলে দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হবে।
