রমজান শুরু হতে না হতেই সিলেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে চলেছে। তিনদিনের ব্যবধানে অনেক পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দুয়েকদিনের মধ্যে এসব পণ্যের দাম আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
দাম বাড়ার জন্য খুচরা বিক্রেতারা দায়ী করেছেন পাইকারী ব্যবসায়ীদের। পাইকারী ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান উপলক্ষে চাহিদা বেড়ে গেছে, সরবরাহ কম তাই পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে পুঁজি করে কোনো কারণ ছাড়াই ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে টিসিবি’র ডিলাররা সিলেট নগরীর একাধিক স্থানে ট্রাকে মাল বিক্রি করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা ওসমানী শিশু পার্ক, আম্বরখানা, বন্দরবাজর পোষ্ট অফিসের সম্মুখসহ বিভিন্ন স্থানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে মালামাল বিক্রয় করছেন। বাজার থেকে মালের মূল্য কম থাকায় মানুষ ভিড় করেই এগুলো ক্রয় করছে। কিন্তু টিসিবির ডিলাররা জানান, প্রায় সময় তারা বন্দর বাজারের কিছুসংখ্যক ব্যবসায়ী তাদের বাধা দিচ্ছেন । গত মঙ্গলবার রাতে ‘ইত্তেফাক’কে একজন ডিলার জানান তারা মাল বিক্রি করার সময় ভয়ে থাকেন। গত সোমবার বন্দর বাজারে টিসিবির মাল বিক্রি করার সময় ২৫-৩০ জনের একটি গ্রুপ তাদের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা রক্ষা পান। জেলা প্রশাসনও বলেছে রমজানে টিসিবির পণ্য বিক্রিতে বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত সোমবার আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে নগরীর ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করে সিলেট সিটি করপোরেশন। বৈঠকে রমজান মাসে বিনাকারণে পণ্যমূল্য না বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়। ব্যবসায়ীরাও রমজানে কম মুনাফায় ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির প্রতিশ্রুতি দেন। এর আগে গত সপ্তাহে সিলেট চেম্বারের উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠকেও রমজান উপলক্ষে পণ্যমূল্য না বাড়ানোর আশ্বাস দেন ব্যবসায়ীরা।
কিন্তু সিলেটের বাজার ঘুরে ভিন্ন চিত্রই চোখে পড়ে। রমজান আসার আগেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। গতকাল বুধবার সিলেট নগরীর বন্দর বাজার ,আম্বরখানাসহ নগরীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকা দরে। দু’দিন আগেও কাঁচামরিচের দাম ছিলো ৭০ টাকা কেজি। ৩৮ টাকা দামে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। গত তিনদিনে রসুন ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, আদা ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ৭৫-১২০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২৫ টাকা, শসা প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা, ধনিয়া পাতা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, বিভিন্ন প্রকারের শাক আঁঁটিপ্রতি ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা, বেগুন ২৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রকারভেদে ডাল কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৫ টাকা, ছোলা বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা, খেজুর কেজিতে বেড়েছে ২৫ টাকা। গরুর মাংস কেজিপ্রতি বেড়েছে ২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগী ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা।
নগরীর বন্দর বাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা বলেন, রমজানকে সামনে রেখে পাইকারি বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ৪-৫ রমজান পর দাম কিছুটা কমে আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
