কোন বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করলে আলোকিত ভবিষ্যত্ তৈরি হবে তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন। তবে এই ক্ষেত্রে প্রকৌশল বিষয়টি ব্যতিক্রম। সবসময় শিক্ষার্থীদের কাছে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে সময়ের সাথে প্রকৌশল পেশার পরিধির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। একই সাথে এসেছে চাহিদার ভিন্নতা। এদিক দিয়ে এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাহিদা বেড়েছে লক্ষণীয় মাত্রায়। উড়োজাহাজের প্রকৌশলের কাজে যারা নিয়োজিত থাকেন তাদের বলা হয়ে থাকে উড়োজাহাজ প্রকৌশলী বা এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার। উড়োজাহাজ প্রকৌশলী হতে কয়েক ধাপে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন পড়ে। বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক এই পেশায় আসতে এ দেশে এইচএসসি বা এ-লেভেল পাস করার পর এমন অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে এয়ারলাইন্সের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। কিন্তু এ জন্য কী করতে হবে, কোথায় পড়তে হবে তা অনেকেরই জানা নেই। আগে এ বিষয়ে পড়তে বিদেশে যেতে হতো। বর্তমানে এ দেশেই এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজিতে রয়েছে সেই সুযোগ। যাদের সেন্টার কোড ৯৩১৪২ এবং ঠিকানা :সেক্টর-১১, রোড-২, বাড়ি-১৪, উত্তরা, ঢাকা; ফোন :০১৯২৬৩০২৯৪০। এটি বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের প্রথম অনুমোদিত অ্যাভিয়েশন ইনস্টিটিউট, যার কলেজ কোড ৫০৩৮৯। এই ডিগ্রির আরও কিছু নাম আছে—অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার, উড়োজাহাজ প্রকৌশলী প্রভৃতি। আমাদের দেশে এই বিষয়টি অনেকের জন্য নতুন মনে হতে পারে। কিন্তু এএমই (এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার) লাইসেন্স অর্জনে এটি নতুন কোনো সাবজেক্ট নয়। এ দেশে সম্প্রতি এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার কারণে সবাই কম খরচে অ্যারোনটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারছে। এক্ষেত্রে শ্যানন অ্যারোস্পেসের অধীনে ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে ইএএসএ কমন মডিউলে থিউরিটিক্যাল সম্পন্ন করে প্রাকটিক্যাল শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী যেতে পারেন আয়ারল্যান্ডের শ্যানন এয়ারপোর্টে। থিউরিটিক্যাল শিক্ষার মধ্যে রয়েছে ম্যাথ, ফিজিক্স, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ফান্ডামেন্টাল, মেইনটেনেন্স প্র্যাকটিস, মেটারিয়ালস অ্যান্ড হার্ডওয়ার, ডিজিটাল টেকনিকস, বেসিক অ্যারোডায়নামিকস, হিউম্যান ফেক্টর, অ্যাভিয়েশন লেজিজলেশন। প্র্যাকটিক্যাল টাইমে শ্যানন অ্যারোস্পেসে প্রত্যেক শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট পাওয়ার আগ পর্যন্ত মাসে ৫শ ডলার করে সম্মানী পাবে। আর সার্টিফিকেট পাওয়ার পর শুরুতেই তার বেতন হবে ন্যূনতম ২০০০ ইউরো, সাথে থাকবে আন্তর্জাতিক ধারার সুযোগ-সুবিধা।
এসএসসি-এইচএসসি বা ‘এ’ লেভেল-‘ও’ লেভেল সম্পন্নকারীরা এই কোর্সটি করতে পারবেন। চার বছরে বাংলাদেশের সর্বসমাদৃত ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা বোর্ড বিটেক এডেক্সেলের অধীনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনার্স ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ১৮ মাস পর পায় আন্তর্জাতিক ধারার সার্টিফিকেট লেভেল থ্রি বা এনডি। এর পর আঠারো মাসের লেভেল ফাইভ বা এইচএনডি। এরপর ফাইনাল ইয়ার বা চতুর্থ বছর পাবেন টপ আপ বিবিএ বা বিএসসি। এর পর শুধু বাংলাদেশই নয়, পুরো বিশ্ব জুড়ে অ্যাভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে তার ভাগ্যের দুয়ার খুলে যায়। এর শিক্ষা পদ্ধতি অনেক সহজ। এই কোর্সে বিশ্বের ১৭৩টি দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার করার সুযোগ রয়েছে। ১৮ মাস লেভেল-৩ বা এ লেভেল করতে মোট খরচ তিন লাখ টাকা, ১৮ মাস লেভেল-৫ করতে খরচ পাঁচ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং ১ বছর ইংল্যান্ডের কিংসস্টোন বিশ্ববিদ্যালয় বিএসসি করতে টিউশন ফিস সেমিস্টার ওয়াইজ দিতে হবে।
