পবিত্র রমজান মাসে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে নওগাঁর মহাদেবপুরের তরিতরকারির বাজারে। রমজান মাসের শুরুতেই হাট-বাজারগুলোতে হঠাত্ করেই অস্বাভাবিক গতিতে বেড়েছে তরিতরকারির দাম। কোন কোনটির দাম তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বরাবরের মত এবারও রমজান মাসকে ঘিরে অসত্ ব্যবসায়ীদের মূল্যবৃদ্ধির অশুভ তত্পরতা রোধে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ না থাকায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন ক্রেতাসাধারণ।
হঠাত্ করে অকারণে তরিতরকারির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে ক্রেতাসাধারণ হিমশিম খাচ্ছেন। উত্পাদনের সাথে চাহিদার পার্থক্য না থাকলেও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমত দাম বৃদ্ধি করে ক্ষণে ক্ষণে অস্থিতিশীল করে তুলছেন বাজার। কৃষকের কাছ থেকে ঠিকই কমদামে ক্রয় করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি করে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে উত্পাদন করলেও কৃষক নায্য দামটুকু পর্যন্ত পাচ্ছেন না অসত্ ব্যবসায়ীদের কাছে। নিজের উত্পাদিত ফসল খুচরা বাজারে নিজেই আবার বিক্রি করতে পারেন না কৃষক। এ ব্যাপারে পাইকারী ব্যবসায়ীদের ওই সিন্ডিকেট অলিখিত আইন করে রেখেছেন।
উপজেলা সদরসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আলু, বেগুন, করলা, ঢেড়স, ঝিঙে, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ নানান শাকসবজি, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, কাঁচা মরিচ ও শুকনো মরিচসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম হঠাত্ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবের মধ্যে কোনটির মূল্য দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি হয়েছে। ৮ টাকা কেজির আলু এখন ১৪/১৫ টাকা, ১০ টাকা কেজির বেগুন ৪০/৪৫ টাকা, ১২ টাকা কেজির করলা ৪০ টাকা, ৫ টাকা কেজির ঢেড়স ২০ টাকা, ৬ টাকা কেজির ঝিঙে ২০ টাকা, ৮ টাকা কেজির মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা, ২২ টাকা কেজির পিঁয়াজ ৫০/৬০ টাকা, ৪৫ টাকা কেজির রসুন ৮৫/৯০ টাকা, ৫০ টাকা কেজির আদা ১৬০ টাকা, ১০ টাকার মাঝারী লাউ ২০/২৫ টাকা, ৪০ টাকা কেজির কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, ১৮০ টাকা কেজির শুকনো মরিচ ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, উত্পাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরেও কমদামে ক্রয়কৃত এসব তরিতরকারি পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের কাছে বেশি মূল্য ধরছে। মূল্য বেশি রাখার ব্যাপারে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাজারে সরবরাহ কমের অজুহাত দেখালেও বাস্তবে দেখা যায়, এখানে বিপুল পরিমাণ জমি থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ তরিতরকারি, শাক-সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল উত্পাদন হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এখানে বেগুন, করলা, ঢেড়স, ঝিঙে, মিষ্টি কুমড়া ও লাউসহ বিভিন্ন শাক-সবজির চাষ হয়েছে ১ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও আলু, মরিচ, রসুন, পিঁয়াজ ও আদাসহ অন্যান্য তরকারি, মসলা ও ডাল জাতীয় ফসলের চাষ হয়েছে আরো ২ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে। এসব জমি থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফসল উত্পাদনের কথা স্বীকার করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ কর্মকর্তারা জানান, ওই পরিমাণ জমি থেকে যে পরিমাণ তরিতরকারি, শাক-সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল উত্পাদন হয় তা স্থানীয় চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে বাজারে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি অযৌক্তিক।
