শতবর্ষ পূর্তিতে দুই বছরব্যাপী কর্মসূচি

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৩, ২১:৫১
একশ’ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই বছরব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। এ কর্মসূচির মধ্য রয়েছে সেমিনার, আলোচনা সভা, স্মারক মুদ্রা ও নোট, স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ, প্রদর্শনী ও প্রকাশনা উত্সব। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে চারটি কিউরেটিয়াল বিভাগের সংগৃহীত নিদর্শন নিয়ে যৌথভাবে এ বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনী আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। প্রদর্শনীতে মোট ২২৩টি সংগ্রহভুক্ত নিদর্শন ও কিছু আলোকচিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। যা জাদুঘরের জায়গার স্বল্পতার কারণে প্রদর্শনী গ্যালারিতে রাখা সম্ভব হয় না। প্রদর্শনী গ্যালারিতে রয়েছে প্রাচীন ভাস্কর্য, সোনা, রূপা ও ব্রঞ্জের মুদ্রা, দলিলপত্র, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ, কালো পাথর, মৃিশল্প, অলঙ্কার, নকশি কাঁথা, মসলিন ও জামদানি শাড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এছাড়াও জাতীয় পাখি দোয়েল, কাঠবিড়াল, শিয়াল, বসন্ত বাউরী, উড়ন্ত সাপ, শামুক-ঝিনুক, রঙ্গিন প্রজাপতি, রাজ গোখরা, সংখনি সাপের প্রাণিজ নিদর্শন প্রদর্শন করা হয়েছে। গত ৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জাতীয় জাদুঘরের শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এ সময়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও জাদুঘরের মহাপরিচালক প্রকাশ চন্দ্র দাস উপস্থিত ছিলেন। চারটি কিউরেটরিয়াল বিভাগের প্রদর্শনীর বিষয়ে জাদুঘরের মহাপরিচালক প্রকাশ চন্দ্র দাস বলেন, তরুণ প্রজন্ম এই প্রদর্শনীতে এসে দেশের কয়েক হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস-ঐতিহ্য, বাঙ্গালি, বাংলাদেশ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে শেকড়ের সন্ধান পাবে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, এই নিদর্শনগুলো দেখার এটি একটা বিশেষ সুযোগ। কারণ যে সকল প্রদর্শনী চারটি কিউরেটরিয়াল বিভাগে রাখা হয়েছে সেগুলো সাধারণত জাদুঘরে গ্যালারির আভাবে স্টোর রুমে রাখা হয়। তাই এই প্রদর্শনীগুলো অন্য সময়ে দেখার সুযোগ কম থাকে। এক দর্শনার্থী বলেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানতে পারি। এই ঐতিহাসিক প্রদর্শনীগুলোর মধ্য বিশেষ করে হোসেনী দালান (রুপার তৈরি, ১৯ শতকে প্রাপ্ত) ও মিসরের ভাস্কর্য (নেফারতিতির মুখমন্ডল) দেখে খুব ভালো লেগেছে। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর জাদুঘর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯১৩ সালের ৭ আগস্ট। ১৯৮৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ঢাকা জাদুঘর’-কে আত্মীকরণের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং একই বছর ১৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।