১২শ’ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩৬

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৫
বিসিএসসহ সব পাবলিক পরীক্ষায় কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় ১২শ’ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে ৫শ’ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে। শাহবাগ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে। তবে পুলিশ বলেছে, আটককৃতদের যাচাই-বাছাই করে যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকবেন না, তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। রমনা জোনের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান জানান, শাহবাগ থানার এসআই আবদুল রউফ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলার এজাহারে হাফিজুর রহমান, মীর্জা তুহিনুল হক, শিকদার দীদারুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মতিউর রহমান, জুনায়েদ, নুরুল হুদা, রায়হান কায়সার ও আরিফ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ৯ জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র। তাদের সংঘর্ষের দিন ক্যাম্পাস থেকে আটক করা হয়েছিল। ৯ ছাত্র ছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ে আরও এক হাজার থেকে ১২শ’ জন শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে। শাহবাগ থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামিরা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিনা তা মামলার এজাহারে স্পষ্ট করা হয়নি। মামলায় শাহবাগ চত্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় ভাংচুর, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের কথা বলা হয়েছে। শাহবাগ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল জলিল জানান, সংঘর্ষ, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পুলিশের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে তাদের চিহ্নিত করা হবে। পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার আটক ৯ ছাত্রের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাই তাদের পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত শাহবাগ ও ঢাবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। এদিকে, উপাচার্যের বাসভবন ও বিভিন্ন অফিসে হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা কামরুল আহসান বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে ৫শ’ শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ এ মামলায় কাউকে গ্রেফতার করেনি। শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, ভিসির বাসভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে হামলা ও ভাংচুরের সঙ্গে জড়িত আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।