মুম্বাই ও মহারাষ্ট্রে প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৬
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে দুদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতে রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। বাস, ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাংশে, দক্ষিণ গুজরাটে বৃষ্টিপাতে যানবাহন চলাচল ব্যাপকভাবে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গেও ভারিবর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার। মুম্বাইয়ের রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। এর ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে অফিসগামী যাত্রীরা। অনেক রেলওয়ে স্টেশন পানিতে ডুবে যাওয়ার ফলে ট্রেন ছাড়তে দেরি হচ্ছে। কোনো কোনো ট্রেন ছাড়তে আধাঘণ্টা থেকে একঘণ্টা দেরি হচ্ছে। মুম্বাইয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গতকাল সকালে মুম্বাইয়ে এক সেন্টিমিটার এবং উপকূলীয় এলাকায় ১ দশমিক ৬২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। মহারাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ গুজরাটেও গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে মুম্বাই-আহমেদাবাদ এবং মুম্বাই-নিউদিল্লিগামী ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। গুজরাটের কোনো এলাকায় রাস্তায় পানি দুই ফুট পর্যন্ত হয়েছে। পানি সরা না পর্যন্ত এসব এলাকায় জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হবে না বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের জেরে আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে ভারিবর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানত উপকূলবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুন্দরবন অঞ্চল, হাওড়ায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভুটান ও সিকিম পাহাড়ে অবিরাম বর্ষণে গত চারদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিস্তা, সঙ্কোশ, রায়ডাক, কালজানি, ডুয়ার্সের লিস-ঘিস মূলত উত্তরবঙ্গের এই পাঁচটি নদীকে ঘিরেই বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে সেচ দফতর তথা উত্তরবঙ্গের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কমিশন। গতকাল সকাল থেকেই বাড়তে শুরু করেছে মালদহের ফুলহার নদীর জল। অন্যদিকে গঙ্গা ও মহানন্দা নদীর জলও প্রায় বিপদসীমা ছুঁয়েছে। ইতিমধ্যেই ফুলহারের জল বেড়ে মালদহের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৫০টিরও বেশি বাড়ি জলমগ্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ত্রাণ পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।