চট্টগ্রামে ট্রাফিক জনবল দ্বিগুণ কিন্তু যানজটের উন্নতি হয়নি

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৯
বন্দরনগরীতে রমজান মাসেও তীব্র যানজট থেকে রেহাই পাচ্ছে না নগরবাসী। ট্রাফিক বিভাগে জনবল দ্বিগুণ বেড়েছে। তারপরও সুফল মিলছে না। রাস্তার উপর যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, অবৈধ স্ট্যান্ড, জরাজীর্ণ মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি হঠাত্ বিকল হয়ে পড়া ও ট্রাফিক পুলিশের গাফেলতি যানজট নিরসন হচ্ছে না। এসব অনিয়ম বন্ধে জনদাবি বার বার উপেক্ষিত হচ্ছে। যানজটে নষ্ট হচ্ছে কর্মজীবী, স্কুল কলেজে শিক্ষার্থী ও নানা পেশার মানুষের কর্ম ঘণ্টা। পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের অভিযোগ ট্রাফিক পুলিশের জনবল বাড়লেও ব্যবস্থাপনায় কোন উন্নতি হয়নি। বরং হয়রানিও চাঁদাবাজি আগের চেয়ে বেড়েছে। যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসী। কোনোভাবেই যানজট নিরসন হচ্ছে না। জরাজীর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ বাস, ট্রাক, টেম্পোসহ গণপরিবহনের যানবাহনে কারণে যানজট বাড়িয়ে দিয়েছে। নগরীতে যানজটপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে- চকবাজার, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, ওয়াসা মোড়, দেওয়ানহাট, নিউ মার্কেট মোড়, তিন পোলের মাথা, বক্সিবিট, আগ্রাবাদ, কেপিজেড মোড়, বন্দরটিলা, স্টীল মিল বাজার, অলংকার মোড় ও জাকির হোসেন রোড ইত্যাদি। নগর পরিকল্পনাবিদরা জানান, অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। মাস্টারপ্ল্যান অনুসারে কোন উন্নয়ন কাজ হচ্ছে না। টাকার পিছনে ছুটছে উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত সরকারি সংস্থাগুলো। রমজান শুরু হয়েছে তিনদিন হলো। দেখা গেছে প্রতিদিন অফিস খোলা ও ছুটির সময় এবং দুপুরে নগরীর কয়েক স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট জীবন যাত্রা অতিষ্ঠ করে তুলেছে। কিছু এলাকায় ট্রাফিক থাকলেও দায়সারা ভাব। কোন তত্পরতা নেই। নগরীতে চকবাজার মোড় ও কাপাসগোলা রুটে অব্যাহত যানজট এই সড়কে চলাচলকারী ও ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই এলাকায় রয়েছে প্রায় ৮/১০টি সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর চকবাজারে রয়েছে ৬টি বড় ধরনের বিপণি বিতান। নিত্য যানজট শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে পৌঁছতে পারে না। কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের দায়সার ভাব যানজট নিরসন হচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। রিয়াজ উদ্দিন বাজার, তিনপুলের মাথার অব্যাহত যানজট আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা ছড়িয়ে পড়ে। এখানে রাস্তার উপর পুলিশের সামনে অসংখ্য প্রাইভেট কার, মাইক্রো বাস, সিএনজি অটো রিক্সা, রিক্সা পার্কিং করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনপুল মাথার ট্রাফিক পুলিশের চাঁদা আদায়ের অন্যতম স্পট। এছাড়া কর্ণফুলী তৃতীয় সেতুর উত্তর পাশের গোল চত্বরে যানজট নিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসী যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এখানে যাত্রী উঠানামা নিয়ে যানবাহনের প্রতিযোগিতা চলে। পুরো সড়ক বন্ধ করে এবং এলোপাতাড়ি যানবাহন রেখে চলে যাত্রী উঠা নামা। এখানে প্রতিদিন অনন্ত এক ডজন ট্রাফিক পুলিশ নিয়োজিত থাকে। তার মধ্যেও যানবাহন চলাচলে কোনো শৃঙ্খলা নেই। ট্রাফিক বিভাগ জানায়, বর্তমানে জনবলের কোন ঘাটতি নেই। প্রায় ১৫০ জন ট্রাফিক সার্জেন্ট রয়েছে। ট্রাফিক কনস্টেবল রয়েছে প্রায় ৬৫০ জন। এর বাইরে ডিসি, এসি, টিআই ও হাবিলদারহ আরও কয়েকশত জনবল রয়েছে। সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য সিএমপি এলাকাকে দুইভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। রমজানে যানজট নিয়ে জনদুর্ভোগ কমাতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি মার্কেটে ব্যবসায়ী সমিতিকে ১০ থেকে ২০ জন লোক নিয়োগ করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশ তাদের ড্রেস দেবে। বেতন ভাতা ব্যবসায়ী সমিতিকে প্রদান করতে হবে। এ প্রসঙ্গে ট্রাফিক পরিদর্শক (উত্তর) মীর নুরুল ইসলাম জানান ইতিমধ্যে বিপণি বিতানগুলোর ব্যবসায়ী সমিতির সাথে তাদের আলোচনা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এদিকে নগরীতে দুটি ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের ফলে ঐ নিত্য যানজট লেগে থাকে। সামান্য বৃষ্টি পড়লে পায়ে হাঁটা মুশকিল হয়ে পড়ে। সড়ক সম্প্রসারণের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। পথচারী চলাচলের ফুটপাত দিয়ে চলছে রিক্সা ও মোটর সাইকেল। অন্যদিকে কদমতলী ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের ফলে বিআরটিসি থেকে কদমতলী মোড়ে দিনে রাতে যানজট লেগে থাকে।