আগামী ২৩ জুলাইয়ের মধ্যেই নবনির্বাচিত চার সিটি মেয়র ও কাউন্সিলদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বর্তমান প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলরদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুনরা দায়িত্ব পাবেন না। শপথ অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
এদিকে দেশের কোন সিটি করপোরেশনের মেয়রের আলাদা কোন পদমর্যাদা দেয়া হচ্ছে না। তারা শুধুমাত্র মেয়র এটিই তাদের মর্যাদা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতিমধ্যে সিটি মেয়রদের আলাদা পদমর্যাদা দেয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান ইত্তেফাককে বলেন, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়রের বেতন-ভাতার পরিমাণ উল্লেখ করে তাদের পদমর্যাদা কী হবে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বেতন-ভাতার সঙ্গে পদমর্যাদা দেয়ার কোন সম্পর্ক নেই বলে সে প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। তাই নতুন করে আর কাউকে সে সুযোগ দেয়ার কোন প্রস্তাব নেই। তবে মেয়রদের ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রত্যেককে বর্তমানের বেতন-ভাতাসহ ৯৪ হাজার টাকা থেকে ৯৭ হাজার টাকায় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, খুলনায় মনিরুজ্জামান মনি, বরিশালে আহসান হাবিব কামাল ও সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী। গত ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এখানেও শাসক দল আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান জয়ী হয়েছেন। গাজীপুর ছাড়া অন্য চার সিটি মেয়র ও কাউন্সিলরদের নাম গেজেটে প্রকাশ করা হয় ২৪ জুন। গেজেট প্রকাশের পরবর্তী এক মাসের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে শপথ না হলে নির্বাচন বাতিল হয়ে যাবে। তাই ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সার-সংক্ষেপ পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
প্রসঙ্গত,২০০৮ সালের ৪ আগস্ট রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী এ বছরের ৭ অক্টোবরের মধ্যে বরিশাল, ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজশাহী ও সিলেট ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলনার নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা ছিল।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনে উল্লেখ রয়েছে, করপোরেশনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। এবং তা নির্ধারণ হবে করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে। আর এই মেয়াদ অবসানের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করারও বিধান রয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই চার মেয়রকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছে। নতুন মেয়র শপথ নিলেও প্যানেল মেয়র এখন দায়িত্ব পালন করবেন। পুরানো যারা পরাজিত হয়েছেন সেসব কাউন্সিলর মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকতে পারবেন। পদত্যাগ করেও পরাজিত মেয়ররা মেয়র পদের দাবিদার থাকছেন। কিন্তু পদে বসতে পারছেন না-কারণ তারা পদত্যাগ করেছেন।
