শেয়ার বাজারে ছয় মাসেও বন্ধ হয়নি পুরনো সূচক

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৯
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নতুন সূচক চালুর তিন মাসের মধ্যে পুরনো সূচক বন্ধ করে দেয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। গত প্রায় ছয় মাস ধরে নতুন (ডিএসইএক্স) ও পুরনো (ডিএসই’র সার্বিক মূল্য সূচক বা ডিজেন) দুই সূচকই গণনা করা হচ্ছে। দুই সূচকের ওঠানামায় প্রায়ই বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে। এরপরও ডিএসই পুরনো সূচক বন্ধ করার ব্যাপারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। গত ২৮ জানুয়ারি নতুন সূচক চালুর সময় ডিএসই’র তত্কালীন প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান বলেছিলেন, বিনিয়োগকারীদেরকে অভ্যস্ত হয়ে উঠার জন্য তিন মাস পর্যন্ত পুরনো সূচক চালু থাকবে। এরপর তা বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত তা বন্ধ করা হয়নি। ডিএসই’র তথ্যে দেখা গেছে, গত ১০ জুলাই ডিএসইএক্স বেড়েছে ২৪ পয়েন্ট আর ডিজেন বেড়েছে ৮৬ পয়েন্ট। এর আগের দিন ৯ জুলাই ডিএসইএক্স বেড়েছে ৫৮ পয়েন্ট অথচ ডিজেন বেড়েছে ১২৪ পয়েন্ট। এভাবে প্রায়ই দেখা যায়, দুই সূচকের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেশি। তাছাড়া এক সূচক বাড়লেও অন্যটি কমতে দেখা যাচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে এসআইবিএল সিকিউরিটিজ হাউজের বিও অ্যাকাউন্টধারী মাসুদুর রহমান বলেন, দুই সূচকের মধ্যে বিস্তর ব্যবধানের কারণে অনেক সময়ই বাজারের গতিবিধি বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। ডিজেন দেখলে দেখা যাচ্ছে সূচক বাড়ছে। কিন্তু একই সময়ে কমছে ডিএসইএক্স। নতুন সূচক চালুর সময় ২৮ জানুয়ারি ডিএসইএক্স ছিল ৪ হাজার ৯০ পয়েন্ট। আর ডিজেন ছিল ৪ হাজার ১৯৭ পয়েন্ট। অর্থাত্ সেসময় দুই সূচকের মধ্যে ব্যবধান ১০০ হলেও বর্তমানে দুই সূচকের মধ্যে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ পয়েন্ট। দিন দিন দুই সূচকের মধ্যে পার্থক্য বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্তি দূর করতে পুরনো সূচকটি দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। সূত্র জানায়, নতুন সূচক ডিএসইএক্স গণনায় কেবল বাজারে সচরাচর লেনদেন হওয়া (ফ্রি-ফ্লোট) শেয়ার বিবেচনায় নেয়া হয়। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের বাজারদর পরিবর্তনের প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠে। তাছাড়া আগের সূচক গণনা পদ্ধতি নিয়ে বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তিও ছিল। যা নতুন সূচক চালুর মাধ্যমে অবসান হয়। এরপরও পুরনো সূচক চালু রাখার পেছনে কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লভ্যাংশ প্রদানের ভিত্তিতে নয়, বরং বৃহত্ মূলধনী কোম্পানি এবং বাজারে যেসব কোম্পানির সর্বাধিক শেয়ার রয়েছে, সেগুলোকেই নতুন সূচকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বাজারের প্রায় ৯৭ ভাগ শেয়ারই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ১৯৯টি কোম্পানি নিয়ে ডিএসইএক্স সূচক গণনা করা হয়েছে। কেবল কোম্পানিগুলোর লেনদেনযোগ্য শেয়ার নিয়ে এ সূচক গণনা করা হয়। আর পুরনো সূচকে ওই কোম্পানি ছাড়াও আরও অনেক কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি নতুন সূচকে অনেক কোম্পানি রয়েছে যেগুলো পুরনো সূচকে অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে দুই সূচকের ওঠানামার ক্ষেত্রে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। তাছাড়া পুরনো সূচকে হিসাবায়নে ত্রুটি না থাকলেও বাজারের প্রকৃত গতিবিধি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। এ প্রেক্ষিতেই নতুন সূচক চালু করে ডিএসই। তবে এখন পর্যন্ত পুরনো সূচক বন্ধ না করায় বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্তি কাটছে না। এসব প্রসঙ্গে ডিএসই প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু ইত্তেফাককে বলেন, ডিজেন বন্ধ করা উচিত বলে আমিও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মৌনতায় বুঝা যাচ্ছে, তারা চায় এটা আরও কিছুদিন থাকুক। তাই বিএসইসি’র পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা না থাকলে যে কোনো সময় ডিজেন বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। তিনি আরও বলেন, ৩০ জুলাই সূচকে পুনঃসমন্বয় করা হবে। তখন যেন ডিজেন বন্ধ করে দেয়া হয় সে ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে চাওয়া থাকবে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার আরিফ খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সূচক চালু করা বা বন্ধ করা এটা স্টক এক্সচেঞ্জের বিষয়। এখানে বিএসইসি’র কোনো এখতিয়ার নেই।