নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ-তে মার্কেটিং আর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এ দুটি বিষয় নিয়ে প্রথম বিভাগে পাস করেন ২০০৫ সালে। ইন্টার্নশিপ করেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের লোকাল কর্পোরেট ডিভিশনে। তারপর ডেইম্লার ক্রাইস্লারএজির বাংলাদেশে জেনারেল ডিস্ট্রিবিউটর র্যাঙ্কন মটরসে্ ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগ দেন। র্যাংগস গ্রুপের এই কোম্পানিটি বাংলাদেশে মার্সিডিজ-বেঞ্জ ব্র্যান্ডের গাড়ি বাজারজাত করে। এরপর র্যাংগস গ্রুপেরই আরেকটি কোম্পানি র্যাংগস প্রপার্টিজ লিমিটেডে প্রায় দুই বছর কাজ করে ২০০৮ সালে যোগ দেন ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টে। তারপর থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরে ব্যাংকটির সাফল্যে সঙ্গী হয়ে ব্র্যান্ডিংয়ে উত্কর্ষ সাধনের সাথে সাথে নিজেরও মিলেছে অনেক সম্মান, স্বীকৃতি ও পুরস্কার। একাধিক পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডে কাজ করছেন সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার হিসেবে। বলছিলাম এই প্রজন্মের মেধাবী ব্র্যান্ড ম্যানেজার সুলতান মাহমুদ সরকার সম্পর্কে।
বাবার চাকরির সুবাদে সুলতান মাহমুদ সরকারের ছেলেবেলা কেটেছে ঝিনাইদহে। শান্ত-শিষ্ট স্বভাবের ভালো ছাত্র হওয়ার কারণে শিক্ষকদের খুব আদরের ছিলেন তিনি। মানুষের ব্যক্তিত্ব ও নীতিবোধের ভিত্তি রচিত হয় স্কুল জীবনেই। তাই মানসিক বিকাশে স্কুলশিক্ষকদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি। তার পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুল স্কলারশিপ প্রাপ্তি, ব্যাচের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক (পাঁচটি) লেটার মার্কস নিয়ে ১৯৯৭ সালে প্রথম বিভাগে স্টার মার্কসসহ এসএসসি পাসের বেশিরভাগ কৃতিত্ব দিতে চান কাঞ্চননগর স্কুলের শিক্ষকদের। গান গাওয়া ও ছবি আঁকার মতো সুকুমারবৃত্তিগুলোর বিকাশে তার স্কুলটি যত্নবান ছিল। স্কুলজীবনে সাধারণজ্ঞান, উপস্থিত রচনালিখন ও চিত্রাঙ্কন বিষয়ে অসংখ্য প্রতিযোগিতায় স্থানীয়, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিয়ে পুরস্কার জিতেন সুলতান মাহমুদ সরকার। এরপর ঢাকায় সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তারপর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ শেষ করেই পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন। তার ব্যাংকার বাবা অবসর নিয়েছেন অল্প কিছুদিন হলো, আর গৃহিণী মা তাদের সংসারটি আগলে রেখেছেন। বাবা-মায়ের সাথেই থাকেন তিনি। সুলতান মাহমুদ সরকার পরিবারের একমাত্র সন্তান। চাকরিরত অবস্থায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রথম বিভাগে এমবিএ শেষ করলেন গত বছর।
সুলতান মাহমুদ সরকার ব্র্যান্ডিং বিষয়ে বিভিন্ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ ছাড়াও এ বিষয়ক বই আর ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করেন সবসময় আপডেট থাকার জন্য। নিজের আগ্রহে শেখা বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া ও গ্রাফিক্স সফটওয়্যারে বিস্তর দখল থাকায় এ পেশায় বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন অনেক। নিজের কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্র্যান্ডিংয়ের মূল উদ্দেশ্য পণ্য বা সেবাকে সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যসহ আকষর্ণীয়ভাবে উপস্থাপন করা। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, মেগাসাইন, সাইনেজ, প্রেস বিজ্ঞপ্তি, কর্পোরেট ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ইত্যাদি মাধ্যম ব্যবহার করে পণ্য ও সেবা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিয়ে ক্রেতাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা হয়। সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পেশাগত জীবনে নামকরা প্রতিষ্ঠানের সিএমও (চিফ মার্কেটিং অফিসার) হতে চাই। এ দেশে ব্র্যান্ডিংয়ের প্রসারে কাজ করতে চাই। ব্যক্তিগত জীবনে একজন দায়িত্বশীল, সুনাগরিক ও সত্ মানুষ হিসেবে জীবনটা পাড়ি দিতে চাই।’
সুলতান মাহমুদ সরকার
ডাকনাম :টুটুল
জন্মতারিখ ও স্থান :৫ আগস্ট, ঝিনাইদহ
মায়ের নাম :সুলতানা দীন আরা
বাবার নাম :আশরাফ আলী সরকার
প্রথম স্কুল :কাঞ্চননগর মডেল হাই স্কুল, ঝিনাইদহ
প্রিয় মানুষ :বাবা-মা
প্রিয় উক্তি :‘বি দ্য চেঞ্জ দ্যাট ইউ উইশ টু সি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’—মাহাত্মা গান্ধী
প্রিয় পোশাক :জিন্স ও চেক পলোশার্ট
অবসর কাটে যেভাবে :প্রচুর মুভি দেখে, গান শুনে, বই পড়ে, দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :অবিরাম উত্কর্ষে আর অবিরত চেষ্টায় প্রতি মুহূর্তে নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া।
