এ সময়ে কিছু উচ্চ ডিগ্রি আছে, যা অর্জন করার আগেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী চাকরির আমন্ত্রণপত্র পেতে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম অবস্থানে রয়েছে এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং। যেখানে এয়ারলাইন্স সংস্থাসমূহের কাছ থেকে একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরির আমন্ত্রণের মধ্য হতে নিজের পছন্দমতো প্রতিষ্ঠান নিজেই নির্বাচিত করতে পারেন। বিশ্বজুড়ে এই শিল্পে পদের তুলনায় দক্ষ । অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার প্রফেশনালদের অপ্রতুলতার কারণে শিক্ষা জীবনের শেষ বর্ষে অধ্যয়নরতদের চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে থাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফলে ছাত্রছাত্রীরা উচ্চ আয়ের সাথে পেশাদার জীবন শুরু করার সুযোগ পায় দ্রুত। এভাবেই এই খাতে সফলতার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছে বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থী নাইম। এইচএসসি পাস করে তিনি উত্তরার এগার নম্বর সেক্টরে দুই নম্বর রোডে চৌদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজিতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি চলে গেছেন জাপানের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় হকডু ইউনিভার্সিটিতে এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে। সেখানে তিনি পড়ালেখা করার সময়েই মাসে সম্মানী পাবেন একলাখ টাকারও বেশি। সাথে থাকবে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। বিশ্বের এ ধরনের একটি উন্নত দেশে সহজেই ভিসা পেয়ে ক্যারিয়ারে শুরু করা সম্ভব হয়েছে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো একটি চাহিদাপূর্ণ বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করার কারণে। এখন শুধু তার এগিয়ে যাওয়ার সময়। তার সাথে কথা হলে নাইম জানান, আন্তর্জাতিক পেশাদার হওয়ার ক্ষেত্রে কী বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করলে বেকার বসে থাকতে হবে না এবং কর্মক্ষেত্রটি সামাজিক মর্যাদার দিক দিয়ে উচ্চ স্তরের হবে—এসব নানা বিষয় নিয়ে তরুণদের প্রথমে ভাবতে হয়। আর এই ভাবনাটা বেশি করতে হয় এইচএসসি’র পর। চ্যালেঞ্জিং বিষয় হিসেবে অনেকের মতো আমিও সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন কারণে অ্যাভিয়েশন সেক্টরের অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার চিন্তা করেছিলাম। কেননা এই খাতে রয়েছে আন্তর্জাতিক ধারা বজায় রেখে উচ্চ বেতন, চমত্কার জীবনযাপন, পৃথিবীজুড়ে কর্মক্ষেত্রের ব্যাপ্তি, এমনকি সামাজিক মর্যাদায় বেশ এগিয়ে রয়েছে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। এভাবেই এইচএসসি পাস করে জানতে পারলাম কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজিতে এই বিষয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ আছে। প্রতিষ্ঠানটির সাথে আরও জানতে ৮৯৯১৩৭১ টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করি। সেখানে গিয়ে দেখলাম তাদের পরিচালনা করা ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত এবং এখান থেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর সম্পন্ন করে উন্নত বিশ্বের বহু দেশে মাস্টার্স করার সুযোগ আছে। এরপর সেখান থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়ে আমি দ্রুত জাপানের মতো একটি দেশে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পেয়েছি। এখন আমার জন্য সামনে এগোনোর অবারিত সুযোগ।’
অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারের কাজের ক্ষেত্রটা ব্যাপক। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারদের সাধারণত কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয় প্রশ্নের উত্তরে নাইম জানান, ‘এদের বিশেষ করে অ্যারোপ্লেন উড্ডয়নের আগে এর সব সিস্টেম ঠিক আছে কি না তা সম্পর্কে পাইলটরা সব ধরনের তথ্যপত্র দিয়ে থাকেন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারা। উড়োজাহাজের যাত্রী ও পাইলটদের জীবন এবং তাদের নিরাপদে পৌঁছানোর অনেক কিছু নির্ভর করে এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারের উপর। তবে এয়ারক্রাফটের নিত্যনতুন ডিজাইন উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ, এয়ারফ্রেম ইঞ্জিন তৈরি, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির সংযোগ স্থাপন, মেরামত প্রভৃতি করাও তাদের কাজ। অন্যদিকে এয়ারক্রাফটের ফ্লাইট টেস্ট প্রোগ্রামে টেক অব ডিস্টেন্স, রেট অব ক্লইম্ব, সিল স্পিড, ম্যানুভারিলিটি অ্যান্ড ল্যান্ডিং ক্যাপাসিটি প্রভৃতি পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। অন্যদিকে জ্বালানি দূষণ কমানো, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়, সেফটি সিস্টেমসসহ অন্যান্য বিষয় নিয়েও তারা কাজ করে তারা।’ নাইম বলেন, ‘আমাদের ব্যাচের বিশ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী উন্নত বিশ্বে ভিসা পেয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চলে এসেছি। বাকিরা দেশেই চাকরির সুযোগ নিচ্ছে। এএমই লাইসেন্স পেলেই বেতন হয় দু’হাজার ইউরো। সাথে থাকে আন্তর্জাতিক ধারার অন্যান্য সুবিধা। শিক্ষা জীবনে একজন শিক্ষার্থীর এর চেয়ে আর বেশি কি প্রত্যাশা থাকতে পারে!’
