ধানের দাম হঠাত্ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য বিভাগের সাথে চালের চুক্তি নিয়ে বিপাকে পড়েছে মিলাররা। ফলে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চলতি বছর ১ লাখ ৩৫ হাজার ১০ টন চাল ও ধান সরবরাহের জন্য দিনাজপুর জেলা খাদ্য বিভাগের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ২ হাজার ৬৯ জন মিলার। এর মধ্যে ধান ৫ হাজার ৩শ’ টন, চাল ৯৪ হাজার ৭১০ টন, আতপ চাল ৩ হাজার ৫শ’ টন রয়েছে। এসব মিলার এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ হাজার টন চাল ও ধান সরবরাহ করেছে খাদ্য বিভাগকে। অবশিষ্ট ধান-চাল নির্দিষ্ট সময় অর্থাত্ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহ হবে এমনটাই আশা করছে খাদ্য বিভাগ। তবে ধানের দাম হঠাত্ করে বেড়ে যাওয়ায় ধান ক্রয়ে দাম বেশি পড়ছে মিলারদের। বিআর-৩২ চাল ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা মণ (৪০ কেজি) দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাত্ এতে প্রতি কেজি চালের দাম পড়ে ২৯ টাকা ৩০ পয়সা। সেই হিসাবে দিনাজপুর খাদ্য বিভাগকে সরবরাহ করতে গেলে কেজি প্রতি ৪০ পয়সা থেকে ১ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কৃষকদের একটি সূত্র জানিয়েছে, এবার ধানের ফলন বেশি হলেও অনেক স্থানে ধান পরিপুষ্ট ছিল না। ফলে ওজনও কমে গেছে। ৬০ কেজি ধানে কৃষকরা পাচ্ছেন ৩৮ কেজি চাল। কৃষকরা বলছে ধানে দানা গত বছরের মত পরিপুষ্ট ছিল না। দানার ওজন কম হয়েছে। এ কারণে ধান বেশি উত্পাদন হলেও ধানের পুষ্টতা কম থাকায় চালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে এ দাম স্থায়ী হবে না বলেও কৃষকরা জানিয়েছেন। তাদের মতে আউশ ধান বাজারে এলে ধানের দাম আবারও কমে যাবে। সরু চালের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। মানসম্পন্ন লাল পাইজাম খুচরা ৪২ থেকে ৪৬ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৩৫ টাকা এবং বিআর-২৯ চাল ৩৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের দাম বেড়ে যাবার মূল কারণ ধানের পুষ্টতার অভাব। বাজারে ধানের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ধানের পুষ্টতা কম হওয়ায় কৃষকদের লোকসান হচ্ছে। তাই চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। সরু চাল নিয়ে সমস্যা না হলেও মোটা চাল নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন মিলাররা। খাদ্য বিভাগের সাথে তারা যে পরিমাণ চাল সরবরাহের জন্য চুক্তি করেছেন, অবশিষ্ট চাল মিলাররা দিতে পারবেন কিনা এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আনোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে জানান, সংগ্রহ অভিযান সফল করার লক্ষ্যে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। প্রথম দিকে খাদ্য গুদামে স্থান সংকুলান ও চটের ব্যাগ স্বল্পতার কারণে সংগ্রহ অভিযান কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। সময়মতো চটের ব্যাগ পাওয়া গেলে হয়তো সংগ্রহ অভিযান আরও জোরদার হতো। এ পর্যন্ত সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার ৪ ভাগের ৩ ভাগ অর্জিত হয়েছে। তিনি আশা করেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যাবে।
দিনাজপুর চাউল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহন পাটোয়ারী জানান, আকস্মিক ধান-চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সংগ্রহ অভিযান কিছুটা বিঘ্নিত হবে। প্রতি কেজি চালে ১ থেকে ২ টাকা করে ক্ষতি হতে পারে মিলারদের। তারপরেও মিলাররা তাদের লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
