শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৩, ২১:২০
সংঘাতের রাজনীতি চর্চায় কখনো অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে না রাজনীতিকে যদি স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে উন্নয়নের পথ হবে কন্টকময়। তাহলে কি পরিত্রাণ নেই? দেশের এই অর্থনৈতিক দৈন্য আর ক্রান্তিলগ্নে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের গঠনমূলক আলোচনা কিংবা শান্তিকামী জনসাধারণের প্রত্যাশিত এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটা মাধ্যম হতে পারে। অসুস্থ রাজনীতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আদর্শ রাজনীতিকে ধারণ করতে হবে। তাই দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ, আপনারা সংলাপে বসুন অথবা সমঝোতায় আসুন। স্বাধীন ও সার্বভৌম এ দেশটির শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে মনস্থির করুন। অন্যথায়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে যাবে আলোকশূন্য গুমোট অন্ধকারের রাজ্যে, যেটা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। মো. ইসতিয়াকউদ্দিন দ্বাদশ শ্রেণী, বিজ্ঞান বিভাগ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ সংঘাতময় দেশের জন্য দায়ী রাজনীতি ও সরকার সংঘাত, হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও এসকল দুর্ভোগ রাজধানীবাসীর নিকট একটি চেনা এবং অতি পরিচিত ঘটনা। আপনি যদি প্রথম ঢাকা এসে থাকেন তা হলে আপনার কাছে তা ভালই লাগবে। ভাল লাগার কারণ আপনাকে হয়তোবা অফিসের কাজে বের হতে হবে না। কিন্তু যারা পুরোনো চাকরিজীবী তারা চাকরির একটা মর্যাদা বোঝেন। তারা কি এরকম ভাবেন? কখনও ভাবেন না। কেননা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি হরতালে অনেকে রাস্তায় বের হয় অফিসে পৌঁছানোর জন্য কিন্তু তাদের পদে পদে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। যা তাদের নিকট খুবই বিরক্তিকর ও অপছন্দ। প্রশ্ন উঠে এই হরতাল, সংঘাতের জন্য দায়ী কে? সরকারি দল না বিরোধী দল? সঠিক উত্তরটা হয়তোবা পাওয়া যাবে না। কারণ সরকারি দল এজন্য বিরোধী দলকে দায়ী করে আর বিরোধী দল করে তার উল্টো। আমি বিরোধী দলকে দায়ী করবো না। এজন্য সরকারি দলই দায়ী। হরতালেও রাজধানী অচল থাকে। কোটি কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশ। এখানে হরতালের মতো বেশি ক্ষতি না হলেও অর্ধেক ক্ষতি হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যায়। বিরোধীদল রোজার পরে বড় ধরনের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা এ ধরনের ঘোষণা দিতে পারেন। কারণ এখন জনগণ তাদের সাথে আছে। কিন্তু সরকার বলছে বিরোধীদল একগুয়েমি করলে তারা নির্বাচন দিবেন না। ক্ষমতা কি প্রধানমন্ত্রীর না জনগণের ? সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে সংঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করার। আমার শ্লোগান হলো: “হরতাল সংঘাত বন্ধ করুন অর্থনৈতিক দেশ গড়ুন”। তা না হলে কবি নজরুলের মতো বলতে হয় “কোন কালে একা হয়নি তো জয়ী সরকারী দল, প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে অর্থনৈতিক জনবল”। তার প্রমাণ সরকার ইতিমধ্যে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে পেয়েছে। তাদের প্রার্থী নিজ আসনেও পরাজিত হয়েছে। নিজেদের বিবেককে পরিবর্তন করে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে হস্তান্তর করতে হবে। জনগণ যাকে ক্ষমতায় আনবে তাদের উচিত জনগণকে প্রাধান্য দেয়া। দেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতায়ন হলে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। মো. মনোয়ারুল ইসলাম মাস্টার্স শেষ পর্ব (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) সরকারি আযিযুল হক কলেজ, বগুড়া ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ যত মসৃণ হবে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত সহজ হবে প্রত্যেকবার নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশে পরিস্থিতি একটু উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি মারাত্মক হয়ে উঠে এই সময়টাতে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ফলে তারা নিজেদের স্বার্থে নানা ধরনের অযৌক্তিক কর্মসূচি দিতে থাকে যার মধ্যে হরতাল অন্যতম। এই হরতালে প্রচুর পরিমাণে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি চালানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টসসহ অন্য কল-কারখানা বন্ধ থাকে। ফলে উত্পাদন না হওয়া দেশ অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এছাড়াও ২০০৭ সালে আমরা ক্ষমতা হস্তান্তরের জটিলতার কারণে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষতির বিভিন্ন উদাহরণ আমাদের সামনে জ্বলজ্বল করছে। সে সময় দেশে জরুরি অবস্থার কারণে ক্ষমতা চলে যায় সেনাবাহিনীর হাতে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় সকল প্রকার বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সাহায্য। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমে যায়। ঐ দুই বছরে বাড়েনি এক মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন। নতুন করে গড়ে ওঠেনি কোন কল-কারখানা। কৃষিতে দেখা দিয়েছিল সার সংকট। সুতরাং এইসব দিক বিবেচনা করে সরকারের উচিত ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি মসৃণ পথ তৈরি করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ সুগম করা। মাহ্দী হাসান ছাত্র, ভেটেরিনারি অনুষদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে বাংলাদেশ একটি শিল্পোন্নত দেশ হলেও এদেশের অর্থনীতি আজ চরম বিপর্যয়ের মুখে। এরজন্য দায়ী সরকার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। কারণ এদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের প্রাধান্য থাকবে সর্বাধিক। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণকে প্রাধান্য না দিয়ে যা খুশি তাই করে যাচ্ছে। দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীদের বসিয়েছে মন্ত্রিসভায়, তারা শুধু নিজের স্বার্থ নিয়ে পাগল। এদিকে জনগণের কি অবস্থা সেটা দেখার বিষয় তাদের নয়।আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবেই বা কেমন করে এরা তো সম্পদের কদর করতে জানে না। এদিকে আবার সরকার বিরোধীদলের ওপর হামলা-মামলা, গুম-হত্যা চালিয়েই যাচ্ছে যার কারণে দেশে সহিংসতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে অর্থনৈতিক উন্নতি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে্। সরকারের উচিত বাংলাদেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নতি ত্বরান্বিত করা। আমানুল্লাহ আবির বিএ অনার্স (সম্মান) ১ম বর্ষ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়